Sunday, April 9, 2017

অন্য ভূমিকায়

অন্য ভূমিকায়


শচীন টেন্ডুলকারশচীন টেন্ডুলকারপরনে ট্রাফিক পুলিশের খাকি পোশাক। মুখে বাঁশি, হাতে লাঠি। শচীন টেন্ডুলকারকে এভাবে দেখতে কেমন লাগবে? ঠিক এভাবে নয়, তবে হঠাৎ করেই ভারতের এক রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায় দেখা গেছে ভারতের সাবেক এই ব্যাটসম্যানকে। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় সোনা ফলে। হোক তা ক্রিকেট, শিক্ষা প্রচারাভিযান কিংবা সমাজের দলিত মানুষের উন্নয়নকাজ। সবকিছুতেই যখন সফল, তাহলে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিই বা বাদ যাবে কেন! কিংবদন্তি এই ক্রিকেটার সম্প্রতি টুইটারে একটি ভিডিও দিয়েছেন। এখানেই দেখা মিলল নতুন ভূমিকার টেন্ডুলকারের। ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ছিল তাঁর গাড়ি। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল না। টেন্ডুলকার তাঁকে হেলমেট পরতে অনুরোধ করেন। এরপর আরও কয়েকজনকেও করেন একই অনুরোধ। তরুণ মোটরসাইকেল আরোহীরা টেন্ডুলকারের কথা তো শুনলেনই, তাঁর সঙ্গে সেলফিও তুললেন। এনডিটিভি

Thursday, April 6, 2017

 শুধু অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথা জানতেন নাজমুল!

শুধু অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথা জানতেন নাজমুল!


শুধু অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথা জানতেন নাজমুল! আমরা জানতাম, অধিনায়ক হিসেবে এটিই ওর শেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ। কিন্তু ঘোষণাটা কখন দেবে, সেটি পুরোপুরি ওর নিজের ওপরই নির্ভর করছিল। আমরা ভেবেছিলাম দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগেই মাশরাফি অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেবে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি থেকেই অবসরের কথা কেন বলল, এটা আমি এখনো জানি না।
কলম্বো থেকে প্রতিনিধি : আগের দিন সন্ধ্যায় মাশরাফি বিন মর্তুজা টি-টোয়েন্টি থেকে তাঁর বিদায়ের বিষাদই ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সর্বত্র। আর পরদিন সকালে সেই অবসরের নেপথ্যের খবরের সন্ধানে বেরিয়ে পাওয়া গেল রীতিমতো চমকপ্রদ এক তথ্য। যেটি দিলেন খোদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান নিজেই। তিনি নাকি জানতেন যে মাশরাফি অধিনায়কত্বই ছাড়বেন শুধু, কিন্তু টি-টোয়েন্টি খেলাটা কিছুতেই নয়!
এ বিষয়ে বোর্ডপ্রধানের বক্তব্য, ‘আমরা জানতাম, অধিনায়ক হিসেবে এটিই ওর শেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ। কিন্তু ঘোষণাটা কখন দেবে, সেটি পুরোপুরি ওর নিজের ওপরই নির্ভর করছিল। আমরা ভেবেছিলাম দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগেই মাশরাফি অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেবে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি থেকেই অবসরের কথা কেন বলল, এটা আমি এখনো জানি না। ’
অবশ্য গত জানুয়ারির নিউজিল্যান্ড সফরে টি-টোয়েন্টি থেকে মাশরাফির অবসরের খবরও নাজমুলের মুখেই পরিবেশিত হয়েছিল। যদিও নিজের দেওয়া সেই খবরকে পরে নিজেই ‘গুজব’ বলে অভিহিত করেও কম সাড়া ফেলেননি তিনি। প্রেক্ষাপট যেহেতু আগে থেকেই তৈরি করে রাখা, তাই এই প্রশ্ন ওঠাও অস্বাভাবিক নয় যে চাপের মুখেই সরে গেলেন না তো মাশরাফি?
নাজমুল দাবি করলেন কোনো চাপই ছিল না, ‘ওর ওপর অবসরের কোনো চাপই ছিল না। প্রশ্নই ওঠে না এটার। ’ সেই সঙ্গে আরো যোগ করেছেন, ‘আমাদের সঙ্গে যা কথা হয়েছে, তাতে ওর শুধু নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা। এবং টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডেও থাকার কথা। এখন যদি ও ফিট থাকে, তাহলে আমরা কেন ওকে খেলাব না? গতকালও (প্রথম টি-টোয়েন্টিতে) সে সবচেয়ে ভালো বোলিং করেছে। নিজে থেকে খেলতে না চাইলে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু আমাদের তো ওকে বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ’
পারফর্ম যখন করছেন, তখন দলকে অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্বও দিতে থাকা মাশরাফিকে অধিনায়কের পদ থেকে সরানোর প্রয়োজন কেন হলো? এ প্রশ্ন ওঠাও খুব স্বাভাবিক। নাজমুল পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভাবনার কথাই বলতে চাইলেন। যেটি ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় হওয়ার কথা আছে। এত দিন দুই বছর পর পর হয়ে এলেও আইসিসি প্রতি চার বছরে একবার করার সিদ্ধান্তেও অবশ্য স্থির থাকতে পারেনি। আর্থিকভাবে লাভজনক খাত হওয়ায় দুই বছর পরই আবার হতে পারে। তাই হতে পারে ২০১৮ সালেও। যার আয়োজক হওয়ার সম্ভাবনা আছে দক্ষিণ আফ্রিকার।    
তবে যখনই হোক না কেন, নতুন অধিনায়কের অধীনে সেই বিশ্বকাপের জন্য দল তৈরি করার চিন্তার কথাই বললেন নাজমুল, ‘সামনে আমাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে। ওই সময়ে হয়তো মাশরাফি খেলবে না। সে হয়তো আগামী এক-দেড় বছর খেলবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নেতৃত্বে তাই পরিবর্তন আসতই। নতুন অধিনায়ক যাতে সময় নিয়ে দলটা গোছাতে পারে, সেই চিন্তাও ছিল আমাদের। ’
তবে এই চিন্তা যে খুব জরুরি ছিল না, সেটি পরে নিজের আরেক কথাতেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। মাশরাফির ওয়ানডে ভবিষ্যৎ নিয়ে জিজ্ঞাসার জবাবে তো বিদায়ী টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের ক্যারিয়ার আরো লম্বাই দেখলেন তিনি। এই ফরম্যাটে অধিনায়ক বদলানোর কোনো পরিকল্পনাই নেই বলে যেমন জানালেন, তেমনি এটাও বলে দিলেন যে মাশরাফি যত দিন চাইবেন তত দিনই খেলবেন।
এমনকি মাশরাফি ২০১৯-এর ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেললেও অবাক হবেন না তিনি, ‘ওয়ানডে অধিনায়কত্বে পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। আমরা এক বছর আগে মনে করেছিলাম, মাশরাফির জন্য চ্যাম্পিয়নস ট্রফিই হবে শেষ। এখন মনে হচ্ছে ও আরো অনেক বেশি দিন খেলতে পারবে। ও যত দিন ফিট থাকে খেলবে। স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার কোনো সুযোগই নেই। যখন সে অবসর নেবে, তখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে থাকবে। এটাই আমাদের ইচ্ছে। ’
আপাতত টি-টোয়েন্টির নেতৃত্বটা নিয়ে ফেলার ইচ্ছেরই বাস্তবায়নই হলো শুধু!

Wednesday, April 5, 2017

রুবেলের জন্য মাশরাফির অবসর!

রুবেলের জন্য মাশরাফির অবসর!


বাংলাদেশের প্রাপ্তি রুবেলের ৭ উইকেট
স্পোর্টস ডেস্ক।। 
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি শুরু হওয়ার খানিক আগে অবসরের ঘোষণা দেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এর পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে জাতীয় দলের এই তারকা ক্রিকেটার। মাশরাফির অবসর ঘিরে ছড়িয়েছে অনেক গুজব। অনেকে বলছেন, টিম ম্যানেজমেন্টের চাপের কারণেই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন মাশরাফি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সফল নন, এ কারণেই অবসর—এমন কথাও বলছেন অনেকে। তবে প্রথম টি-টোয়েন্টির পর সংবাদ সম্মেলনে সব গুজব উড়িয়ে দিয়ে মাশরাফি জানালেন, নতুনদের জায়গা দিতেই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের চিন্তাটা তাঁর মাথায় এসেছে।
নিজের অবসরের কারণ হিসেবে রুবেল হোসেনের প্রসঙ্গও টেনেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা এই অধিনায়ক। মাশরাফি মনে করছেন, ভালো খেললেও কেবল তাঁর কারণেই টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পাচ্ছেন না রুবেল। নিউজিল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়া রুবেল জায়গা পাননি টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে। এটা বেশ কষ্ট দিয়েছে মাশরাফিকে।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দেশসেরা এই অধিনায়ক বলেন, ‘অবসরের সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়েছে কারণ, রুবেলের মতো বোলাররা জাতীয় দলে জায়গা পাচ্ছেন না। গত নিউজিল্যান্ড সিরিজে সে ৭ উইকেট নিয়েছে। অথচ এই সিরিজে দলে নেই সে। এটা আমাকে কষ্ট দিয়েছে। মনে হয়েছে, নতুনরা আমার জন্যই জায়গা পাচ্ছে না। তাই সিদ্ধান্তটা নেওয়া সহজ হয়েছে।’
মাশরাফি মনে করেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে রুবেল হোসেন তার চেয়ে ভালো বোলার। আমি না খেললে রুবেল অবশ্যই দলে জায়গা পেত। আমি ভেবেছি, নতুন ক্রিকেটার তৈরির এটাই সেরা সময়। তারা যেন নিজেদের তৈরি করার সময় পায়।’
মাশরাফি মনে করেন, টি-টোয়েন্টি তরুণদের খেলা। যেখানে সবাই শতভাগ ফিট থাকবে। দ্রুতগতির এই ফরম্যাটের সঙ্গে নিজেদের মিলিয়ে নিতে তরুণদের সমন্বয়ে বাংলাদেশের দল গঠন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। মাশরাফি বলেন, ‘আমাদের টি-টোয়েন্টি দলটা ভালো। বেশ কয়েকজন ভালো ক্রিকেটার আছে। নতুনরা দলে এলে দলের সমন্বয়টা ভালো হবে। আশা করছি, পরের বিশ্বকাপে এই দলটা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলবে।’

Tuesday, April 4, 2017

টি-টোয়েন্টি থেকে মাশরাফির অবসর

টি-টোয়েন্টি থেকে মাশরাফির অবসর


টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। আজ ফেসবুকে নিজের পেজে বাংলা ও ইংরেজিতে ঘোষণার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মাশরাফি অবসরের কথা বলেছেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস জেতার পরও। তবে এই সিরিজটি খেলবেন তিনি ।
২০০৬ সালের নভেম্বরে খুলনায় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অভিষেকের ম্যাচসেরা মাশরাফি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘টি-টোয়েন্টি ইন্টারন্যাশনালে বাংলাদেশ টিমকে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য অনেক গর্বের। আমি বিশ্বাস করি, বর্তমান দলটি একটি ভালো দল এবং দলে কিছু উদীয়মান খেলোয়াড় আছে। আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য এবং আমাকে এত চমৎকার দলের নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’
বিদায়বেলায় মাশরাফি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁর ভক্ত-পরিবার ও বন্ধুদের প্রতিও, ‘আমি আমার সকল ভক্ত, পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ আমাকে সব সময় সমর্থন করার জন্য। এই সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে উত্থান এবং পতন ছিল। আমি সব সময় চেষ্টা করেছি আমার ভক্তদের খুশি করার। আমি আমার প্রত্যেক ভক্তের কাছে প্রতি ম্যাচে খুশি করতে না পারার জন্য ক্ষমা চাইছি। এই মুহূর্তে দল হিসেবে আমরা ভালো খেলছি। আমি নিশ্চিত, বাংলাদেশ সামনের দিনগুলোতেও ভালো ক্রিকেট খেলবে।’
টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায় ঘোষণায় ফেসবুকে এই ছবিটাও দিয়েছেন মাশরাফিটি-টোয়েন্টি থেকে বিদায় ঘোষণায় ফেসবুকে এই ছবিটাও দিয়েছেন মাশরাফিটি-টোয়েন্টি থেকে মাশরাফির অবসরের গুঞ্জন অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। তবে এই সফরে অবসর নেওয়ার কারণ হিসেবে ৫২ টি-টোয়েন্টি খেলা মাশরাফি বলছেন, ‘আমি মনে করি, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসর নেওয়ার জন্য এটাই আমার উপযুক্ত সময়, যাতে অনেক তরুণ উদীয়মান ক্রিকেটার তাদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে এবং বিসিবি তাদেরকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারে। আমি বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ককে আগাম অভিনন্দন জানাই এবং আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা সময় সামনে আসবে।’

Monday, April 3, 2017

এবারও ফেবারিট মোস্তাফিজদের হায়দরাবাদ?

এবারও ফেবারিট মোস্তাফিজদের হায়দরাবাদ?


এবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে হায়দরাবাদ? ফাইল ছবিএবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে হায়দরাবাদ? ফাইল ছবিএক দিন পরই শুরু হচ্ছে আইপিএল। হায়দরাবাদ সানরাইজার্স প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে গত বছর। মোস্তাফিজদের দল কি পারবে এবারও শিরোপা ধরে রাখতে? আগের ৯ আসরে একমাত্র চেন্নাই সুপার কিংস পরপর দুবার (২০১০ ও ২০১১) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ৯ আসরে আইপিএল পেয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ছয় চ্যাম্পিয়ন। শিরোপা হাতবদলেই যেন বিশ্বাসী আইপিএল। তবে শিরোপা ধরে রাখতে হায়দরাবাদ কোচ টম মুডিকে মনে হচ্ছে আত্মবিশ্বাসী।
আইপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, স্বাভাবিকভাবে এবারও ফেবারিট হিসেবেই টুর্নামেন্ট শুরু করতে যাচ্ছে হায়দরাবাদ। তবে এটাকে চাপ হিসেবে নিচ্ছেন না মুডি, ‘মনে হয় না এটা আমাদের জন্য চাপ হবে। গত বছর চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা ছিল ভীষণ গৌরবের। তবে এবার একেবারে ভিন্ন টুর্নামেন্ট। দলে অনেক নতুন সদস্য যোগ হয়েছে। আমার কাছে এটা নতুন অধ্যায়, নতুন বই।’
গত মৌসুমে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার। যদিও তাঁর ব্যাট হাসেনি ভারত সফরে। ভারতের সঙ্গে সদ্যসমাপ্ত টেস্ট সিরিজে মাত্র একটা ফিফটি এসেছে ওয়ার্নারের ব্যাট থেকে। সেঞ্চুরি নেই একটিও। ওয়ার্নারের ফর্ম অবশ্য ভাবাচ্ছে না মুডিকে, ‘এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ধর্মশালা টেস্টে সে ভালো ব্যাটিং করেছে (৫৬)। মনে হয়েছে বেশ ছন্দ ফিরে পেয়েছে। ডেভ (ওয়ার্নার) এমন খেলোয়াড়, যেকোনো বোলিং আক্রমণ ধ্বংস করে দিতে তার একটা বাউন্ডারি লাগে।’
পরশু হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু ম্যাচ দিয়ে উঠছে আইপিএলের পর্দা। অল্প প্রস্তুতিতেই শুরু করতে হচ্ছে টুর্নামেন্ট, তবে এটি খুব একটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেই মনে করছেন মুডি, ‘আমরা সবাই এক জায়গায় হয়েছি। অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজির একই অবস্থা। কোনো দলের খেলোয়াড়ই টুর্নামেন্ট শুরুর দুই সপ্তাহ আগে আসতে পারেনি। ওয়ার্নারকে বাড়িতে যেতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত (ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর) সঠিক ছিল আমাদের। এতে সে আরও সতেজ ও ফুরফুরে হবে। অনেক আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দেরও একই অবস্থা।’
মুডি এ–ও জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কা সিরিজ শেষ করে সেখান থেকেই মোস্তাফিজের ভারতে চলে আসার কথা। যদিও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলছেন, শ্রীলঙ্কা সফর শেষে মোস্তাফিজের ১০-১২ দিন বিশ্রাম প্রয়োজন। এরপর তিনি আইপিএল খেলতে যাবেন। বাংলাদেশ কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে এ মাসের শেষেই আয়ারল্যান্ড যাওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

Friday, March 24, 2017

বাংলাদেশের কাছে হারটাই ভুলতে পারেন না টেন্ডুলকার!

বাংলাদেশের কাছে হারটাই ভুলতে পারেন না টেন্ডুলকার!


২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হারের পর ভারতীয় ড্রেসিংরুমের ছবিটা ছিল এমনই হতাশামাখা। ফাইল ছবি২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হারের পর ভারতীয় ড্রেসিংরুমের ছবিটা ছিল এমনই হতাশামাখা। ফাইল ছবিখেলোয়াড়ি জীবনে তো আর কম পাননি শচীন টেন্ডুলকার। অবসরে যাওয়ার আগেই পেয়েছেন বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ। ব্যক্তিগত আর দলীয় অর্জনে পরিপূর্ণ টেন্ডুলকারের ২৪ বছরের ক্যারিয়ার। তবে এত অর্জনের মধ্যে কিছু ব্যর্থতা আজও হুল হয়ে ফোটে ভারতীয় কিংবদন্তির হৃদয়ে। সেটি অবশ্যই ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে সেই হার। পরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়। 
এক দশক পরও সেই দুঃসহ স্মৃতি মনে পড়লে বিষাদে ভরে ওঠে টেন্ডুলকারের মন। কদিন আগে ভারতীয় পত্রিকা মিড-ডে কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘হারের পরও (টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর) আমরা দুদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজে ছিলাম। এই দুদিন হোটেল রুম থেকে বের হইনি। কোনো কিছুই করার আগ্রহ ছিল না। এটা এমনই হতাশার ঘটনা ওই দুই দিনœকিছুতেই মন বসাতে পারিনি। এটা ভুলে পরের কোনো টুর্নামেন্টে মনোযোগ দেওয়া ভীষণ কঠিনই ছিল।’
১৭ মার্চ পোর্ট অব স্পেনে বাংলাদেশের কাছে ৫ উইকেট হারটা বিরাট ধাক্কা দেয় ভারতকে। নিজেদের পরের ম্যাচে দুর্বল বারমুডার বিপক্ষে বড় জয় পেলেও ২৩ মার্চ শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৯ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় ভারতের। ১০ বছর আগের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা টেন্ডুলকার আজও ভুলতে পারেন না, ‘২০০৭ বিশ্বকাপ আমাদের খুব বাজে গেছে। বাংলাদেশের কাছে প্রথম ধাক্কা, পরে হারলাম শ্রীলঙ্কার কাছে। কখনো ভাবতেও পারিনি বাংলাদেশের কাছে হারব। আমরা অতি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম না। তবে এটা তো প্রত্যাশা করতেই পারেন ভারত বাংলাদেশকে হারাবে। ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার কথা বলা হয়, এটা ছিল তারই একটি।’
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের ঘটনাকে টেন্ডুলকার বলছেন জীবনের সবচেয়ে বাজে দিনগুলোর একটা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে বাজে খেলার পর তিনি ফোন পেয়েছিলেন ভিভ রিচার্ডসের। প্রায় ৪৫ মিনিটের সেই আলাপনে ক্যারিবীয় কিংবদন্তি টেন্ডুলকারকে অনেক কিছুই বুঝিয়েছিলেন, ‘তিনি আমাকে ক্রিকেটের উত্থান-পতন নিয়ে বললেন। উৎসাহ দিলেন, ক্রিকেটে এখনো আমার অনেক কিছু দেওয়ার আছে। বললেন, তুমি অবসরের কথা ভেব না। তিনি আমাদের এক বন্ধুর কাছে শুনেছিলেন আমি ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছি এবং অবসর নেওয়ার কথা ভাবছি। আপনার ব্যাটিং নায়ক এভাবে বলবে সেটা অনেক কাজে দেবে। সুনীল গাভাস্কার আর তাঁকে সব সময়ই অনুসরণ করেছি। স্যার ভিভ আমাকে ঠিক সময়েই ফোন করেছিলেন। আমার নতুন উপলব্ধি হলো। নিজেকে বোঝালাম, এসব ভাবনা দূরে সরিয়ে রাখব।’ 
সেটির ফল টেন্ডুলকার যে পেয়েছেন সেটা তো দেখেছেনই। ২০০৭ বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ঝেড়ে ২০১১ বিশ্বকাপ জিতে দূর করেছেন বহুদিনের আক্ষেপ। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
সাকিব নিজেও হয়তো ভাবেন...

সাকিব নিজেও হয়তো ভাবেন...


সাকিব আজ পা দিলেন ৩০-এ। ছবি: প্রথম আলোসাকিব আজ পা দিলেন ৩০-এ। ছবি: প্রথম আলোচার দিন আগে ২৯-এ পা দিয়েছেন তামিম ইকবাল। আজ বাংলাদেশ দলের আরেক তারকার জন্মদিন। ৩০-এ পা দিলেন সাকিব আল হাসান। যদি ফেলে আসা দিনগুলোয় সাকিব একবার ফিরে তাকান, যে স্মৃতি বা ঘটনাগুলো ভেসে উঠতে পারে তাঁর মনের পর্দায়—
মাগুরা থেকে বিকেএসপি
প্রতিভা বাছাইয়ের জন্য একটা ট্রায়ালে বিকেএসপির কোচরা এসেছিলেন মাগুরায়। ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিকস—সব ধরনের খুদে প্রতিভা খুঁজছিলেন তাঁরা। সাকিব আল হাসানের বাবা মাশরুর রেজা যেহেতু ফুটবলার ছিলেন, জেলা ফুটবল সংস্থার সঙ্গেও জড়িত, তাই তাঁকে ভার দেওয়া হয়েছিল ফুটবলার খোঁজার দায়িত্বে। আর সাকিব? তিনি তখন ক্রিকেটার বাছাইয়ের লাইনে দাঁড়িয়ে! বিকেএসপির এক মাসের ট্রায়ালে নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু বিকেএসপিতে সরাসরি ভর্তির সুযোগ এত সহজ নয়। এবার ছয় মাসের একটা ট্রায়াল। সেই ট্রায়ালও হবে ঢাকায়। আর সেই ট্রায়ালে সারা বাংলাদেশের ভেতর সাকিব পেলেন সর্বোচ্চ নম্বর! সাকিবের ফাইলের ওপর একটাই সংখ্যা লেখা—ওয়ান!
প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট
বিকেএসপি থেকেই একে একে অনূর্ধ্ব ১৩, ১৫, ১৯ দলের সিঁড়ি ভেঙে ২০০৬ সালের আগস্টে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেক সাকিবের। ৩৯ রানে ১ উইকেট আর অপরাজিত ৩০ রান—স্মরণীয় করে রাখার মতো অভিষেক অবশ্য নয়। আগমনী বার্তা সাদামাটা হলেও পরে সাকিবই হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
কন্যা আলায়না হাসান অউব্রের সঙ্গে সাকিব। ছবি: প্রথম আলোকন্যা আলায়না হাসান অউব্রের সঙ্গে সাকিব। ছবি: প্রথম আলোপ্রথম অধিনায়কত্ব
২০০৯ সালের জুনে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে অধিনায়ক, তাঁর ডেপুটি করা হলো সাকিবকে। দুই মাস পর আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের প্রথম টেস্টেই চোটে পড়ে মাশরাফি ছিটকে পড়ায় নেতৃত্ব চাপে বাঁহাতি অলরাউন্ডারের কাঁধেই। সাকিব হলেন বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট অধিনায়ক। অধিনায়কত্বের প্রথম ‘অ্যাসাইনমেন্ট’টা হলো দুর্দান্ত। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়, তা–ও আবার প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই করে! দলকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিলেন সাকিব।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার 
২০১১ সালের ডিসেম্বরে নতুন উচ্চতায় উঠলেন সাকিব। প্রথমবারের টেস্ট অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ জায়গাটা নিজের করে নিলেন। ওয়ানডেতে আগেই হয়েছিলেন। বাংলাদেশের একজন বিশ্বে সবার ওপরে, এই অনির্বচনীয় অনুভূতিটা সাকিবের হাত ধরেই! র‍্যাঙ্কিংয়ের ওঠা-নামার খেলায় শীর্ষ স্থানটা অনেকবার হারিয়েছেন, আবার পুনরুদ্ধার করেছেন। সর্বশেষ র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও উঠেছেন একে।
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ডাবল সেঞ্চুরির পর সাকিব। ছবি: এএফপিনিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ডাবল সেঞ্চুরির পর সাকিব। ছবি: এএফপিপুরস্কার
টেস্টে পাঁচবার ম্যাচসেরা, ওয়ানডেতে ১৫ ও টি-টোয়েন্টিতে দুবার ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পেয়েছেন সাকিব। হয়েছেন ২০১২ এশিয়া কাপের সেরা খেলোয়াড়। সাকিবের তিনবার জিতেছেন প্রথম আলো বর্ষসেরা ক্রীড়া পুরস্কার। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন আইসিসির বর্ষসেরা টেস্ট একাদশে। 

১২.১২.১২ 
ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে উম্মে আহমেদ শিশিরের সঙ্গে পরিচয় সাকিবের। পরিচয় থেকে প্রণয়। শুরুতে ফোনে-স্কাইপেই সীমিত ছিল দুজনের আলাপন। মন দেওয়া-নেওয়ার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ১২ ডিসেম্বর ২০১২ সালে। মনে রাখার মতোই একটা দিনে হলো সাকিব-শিশিরের বিয়ে।
বাবা সাকিব
দেশের মাটিতে ব্যস্ত ছিলেন জিম্বাবুয়ে সিরিজ নিয়ে। হঠাৎই সিরিজ রেখে সাকিব ছুটলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে পৌঁছানোর আগেই পেলেন সুসংবাদটা—বাবা হয়েছেন সাকিব। নভেম্বর ৮, ২০১৫ সাকিব-কন্যা আলায়না হাসান অউব্রের জন্মদিন। বাবা হওয়ার অনুভূতি নিয়ে সাকিব একবার বলেছিলেন, ‘ঠিক যে মুহূর্তে তার জন্ম হয়, ঠিক সেই মুহূর্তে আমার বাবা হিসেবে জন্ম হয় এবং আমার স্ত্রীর জন্ম হয় একজন মা হিসেবে। আমাদের পুরো পৃথিবীটাই যেন বদলে যায়।’
বিতর্ক 
খেলোয়াড়ি জীবনে কম বিতর্কের মুখে পড়েননি সাকিব। মাঠে-মাঠের বাইরে উদ্ধত আচরণ কিংবা শৃঙ্খলা ভঙের অভিযোগে শাস্তিও পেতে হয়েছে নানা সময়ে। সবচেয়ে বড় শাস্তিটা পেয়েছিলেন ২০১৪ সালের জুলাইয়ে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিসিবি তাঁকে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। যদিও পরে তাঁর শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে আনে বিসিবি। একবার টিভি ক্যামেরা ড্রেসিংরুমে তাঁকে ধরার পর অশালীন অঙ্গভঙ্গিও করেন সাকিব। 
সর্বশেষ নিজের অতিরিক্ত শট খেলার প্রবণতা নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি এভাবেই খেলতে পছন্দ করি।’ যত বিতর্কই হোক তাঁকে নিয়ে, সাকিব সব ভুলিয়ে দিয়েছেন মাঠের পারফরম্যান্সে। তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলাটাও নিশ্চয়ই হবে এমনই সাফল্যে মোড়া।
আইপিএল নয়, মোস্তাফিজ আগে বাংলাদেশের

আইপিএল নয়, মোস্তাফিজ আগে বাংলাদেশের



মাশরাফি বললেন, মোস্তাফিজকে বাংলাদেশ দলকেই গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। ছবি: এএফপিমাশরাফি বললেন, মোস্তাফিজকে বাংলাদেশ দলকেই গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। ছবি: এএফপিগত বছরটা চোটের সঙ্গেই কেটেছে মোস্তাফিজুর রহমানের। একের পর এক চোটের ধাক্কা সামলে আবারও মাঠে নিয়মিত হয়েছেন বাঁহাতি পেসার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলেছেন কোনো অস্বস্তি ছাড়াই। এবার তাঁর ‘প্রিয়’ সংস্করণ ওয়ানডেতেও চেনা রূপে ফেরার পালা। 
শ্রীলঙ্কা সফরের পরই মোস্তাফিজকে ব্যস্ত হতে হবে আইপিএল নিয়ে। আয়ারল্যান্ডে মে মাসে ত্রিদেশীয় সিরিজ। জুনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। মোস্তাফিজের সামনে ব্যস্ত সূচি। এই ব্যস্ত সূচি মাথায় রেখে মোস্তাফিজকে বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে খেলানোর কোনো পরিকল্পনা কি আছে বাংলাদেশের? 
ডাম্বুলায় আজ সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা করা হলে বাংলাদেশ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বললেন, ‘ওর যদি বিশ্রামের দরকারই হয়, আমাদের ফিজিও-ট্রেনাররা সেটা নিয়ে আলাপ করবেন। তবে আমি মনে করি, আইপিএল না খেলে যদি বাংলাদেশের হয়ে সব ম্যাচ খেলতে হয়, তবে তার সেটাই করা উচিত। দেশ সবার আগে।’

Thursday, March 23, 2017

টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়াতেই শ্রীলঙ্কায় মিরাজ

টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়াতেই শ্রীলঙ্কায় মিরাজ


প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, টিম ম্যানেজমেন্ট অতিরিক্ত একজন অফস্পিনার চেয়ে পাঠানোতেই মিরাজকে দলে নেওয়া হয়েছে।

Wednesday, March 22, 2017

এখনো রাজ্জাকের উত্তরসূরির খোঁজে

এখনো রাজ্জাকের উত্তরসূরির খোঁজে


আবদুর রাজ্জাকআবদুর রাজ্জাকশ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলে চমক হয়ে এসেছে সানজামুল ইসলামের নাম। গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তান সিরিজে চমক হয়ে এসেছিলেন মোশাররফ হোসেনও।
গত বছর আগস্টে বিসিবির হাইপারফরম্যান্সের (এইচপি) বিশেষ বোলিং ক্যাম্পে থাকলেও জাতীয় দলের ৩০ জনেও ছিলেন না মোশাররফ। খেলা-অনুশীলন কিছুই ছিল না বলে সপরিবারে ভারতে গিয়েছিলেন বেড়াতে। জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে ডেকে এনে অন্তর্ভুক্ত করা হয় জাতীয় দলে। আট বছর পর তাঁকে দেখা যায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। আফগানিস্তানের সঙ্গে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ৩ উইকেট নিয়ে প্রত্যাশার প্রতিদানও দিয়েছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বাজে খেলে মোশাররফ হারিয়ে গেলেন আবারও।
যদি আরেকটু পেছনে যান, গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হঠাৎই উড়িয়ে নেওয়া হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেলা সাকলাইন সজীবকে। তাঁকে অবশ্য দলে নেওয়া হয় ‘বিপদে’ পড়ে। আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হলে সাকলাইনকে যথার্থ বিকল্প মনে করে টিম ম্যানেজমেন্ট। ১৯ মার্চ রাতে রওনা দিয়ে ২১ মার্চ বেঙ্গালুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নেমে গেলেন ম্যাচ খেলতে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিষম চাপে চিড়েচ্যাপ্টা সাকলাইন দ্রুত উধাও হয়ে গেলেন দৃশ্যপট থেকে।
যাঁর শূন্যতা পূরণে সাকলাইনের আসা, সেই সানিও কিন্তু জাতীয় দলে এসেছিলেন আরেক অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনারের বিকল্প হিসেবে। আবদুর রাজ্জাকের বিকল্প হিসেবে খারাপও করেননি। ১৬ ওয়ানডেতে ২৪ উইকেট, ১০টি টি-টোয়েন্টিতে ১২ উইকেট নিয়ে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সুদৃষ্টিতেই ছিলেন। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বোলিং অ্যাকশন অবৈধ হওয়ার পর তাঁর পথটাই যেন বদলে গেল। খেলোয়াড়ি আর ব্যক্তিজীবনের নানা জটিলতায় সানির ক্যারিয়ারের পাশেই বসে গেছে বড় এক প্রশ্নচিহ্ন।
সানজামুল ইসলামসানজামুল ইসলামএকটা সময় সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের স্পিন আক্রমণ সামলেছেন আবদুর রাজ্জাক ও সাকিব আল হাসান। একসঙ্গে খেলা ১১৩টি ওয়ানডেতে দুজনের মোট শিকারসংখ্যা ২৮৭। ২৮টি টি-টোয়েন্টিতে ৭৭। ২০১৪ সালের আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর থেকে জাতীয় দলের দরজাটা বন্ধ হয়ে গেছে রাজ্জাকের। তাঁর বিকল্প হিসেবে গত দুই বছরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেয়েছেন তাইজুল ইসলাম, সানি, সাকলাইন ও মোশাররফ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়ে গেলে এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হবেন সানজামুল।
সাকিবের সঙ্গে আরেকজন বাঁহাতি স্পিনার কেন থিতু হতে পারছেন না বাংলাদেশ দলে? রাজ্জাকের জন্য উত্তরটা দেওয়া একটু কঠিনই। চোখের চিকিৎসা করাতে ৩৪ বছর বয়সী স্পিনার এ মুহূর্তে থাইল্যান্ডে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে বললেন, ‘এটা বলা কঠিন। তবে কিছু সমস্যা তো আছেই। কাউকে দোষ দিতে চাই না। হয়তো স্কিল বা আত্মবিশ্বাস কিংবা মানসিক দুর্বলতার কারণে কেউ ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে পারছে না। আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ সব সময়ই কঠিন। ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে এটি কিছুতেই মেলানো যাবে না।’ রাজ্জাক দলে ব্রাত্য হওয়ার পর যে কজন বাঁহাতি স্পিনার এসেছেন, এর মধ্য কাকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মনে হয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তরে হেসে বললেন, ‘এটাও বলা কঠিন। খেলা ছেড়ে দিলে বলতে পারতাম।’
গত এক বছরে যে কজন বাঁহাতি স্পিনার সুযোগ পেয়েছেন, দলে আসার আগে সবাই ব্যস্ত ছিলেন বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে। সাকলাইন, মোশাররফ কিংবা সানজামুল যাঁর কথাই বলুন, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পেয়েছেন মাত্রই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে। তবে কি ভুল জায়গায় তাঁদের খেলানো হয়েছে? রাজ্জাক তা মনে করেন না, ‘সেটা বলব না। যে ভালো খেলতে পারে, তার সব জায়গায়ই ভালো করার কথা।’
সানি বাদে অন্যরা যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন কি না, সেটি নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন তোলা যায়। সবচেয়ে বেশি আক্ষেপ হওয়ার কথা তাইজুলের। টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও স্বপ্নের সূচনা হয়েছিল তাঁর। ওয়ানডে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করার প্রথম কৃতিত্ব তাঁর। দুর্দান্ত শুরুর পরও ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে উপেক্ষিত তাইজুল এখন শুধুই ‘টেস্ট বোলার’! সাকলাইন-মোশাররফকেও ব্যর্থতা পুষিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি খুব একটা। সানজামুল ব্যতিক্রম হতে পারেন কি না, দেখা যাক!
আরও সংবাদ
আবারও চূড়ায় সাকিব

আবারও চূড়ায় সাকিব


আবারও চূড়ায় সাকিব
অ- অ অ+
কলম্বোর পি সারায় ঐতিহাসিক শততম টেস্টে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আবারও টেস্ট অলরাউন্ডার র্যাংকিংয়ের শীর্ষে সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের ৪ উইকেটে জেতা মাইলফলকের ম্যাচটিতে সাকিব খেলেছিলেন ১১৬ ও ১৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইনিংস। পাশাপাশি বল হাতে দুই ইনিংসে নিয়েছেন ৬ উইকেট। তাতেই সপ্তাহ না ঘুরতে ফের শীর্ষে সাকিব। গতকাল প্রকাশিত সব শেষ র্যাংকিংয়ে সাকিবের রেটিং পয়েন্ট ৪৩১ আর দুইয়ে থাকা রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ৪০৮। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ড র্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকায় ত্রিমুকুট এখন সাকিবেরই।
অলরাউন্ডারের শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিং র্যাংকিংয়েও পাঁচ ধাপ এগিয়েছেন সাকিব। এখন রয়েছেন ২১ নম্বরে, যা তাঁর ক্যারিয়ার সেরা। ক্যারিয়ার সেরা র্যাংকিংয়ে মুশফিকুর রহিম আর মুস্তাফিজুর রহমানও। কলম্বো টেস্টে ৫২ ও অপরাজিত ২২ রানের দুটি ইনিংসে মুশফিক এক ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ২৮ নম্বরে। ৪৯ ও ৮২ রানের দুটি ইনিংসে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা তামিম ইকবাল ৯ ধাপ এগিয়ে ২৪-এ। তবে এটা তামিমের ক্যারিয়ার সেরা নয়। তাঁর রেটিং পয়েন্ট ৬৫৪। ২০১০ সালে ৭০৭ পয়েন্ট পেয়েছিলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ৭ ওভারের এক স্পেলে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের রং বদলে দিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। সব মিলিয়ে কাটার মাস্টার নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। তাতে ২০ ধাপ এগিয়ে মুস্তাফিজ এখন ৪৭ নম্বরে। বোলিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে সাকিব উঠে এসেছেন ১৭-তে।
রাঁচি টেস্টে অপরাজিত ১৭৮ রানের ইনিংসে ব্যাটিং র্যাংকিংয়ের চূড়ায় থাকা স্টিভেন স্মিথের ক্যারিয়ার সেরা রেটিং পয়েন্ট এখন ৯৪১, যা সর্বকালের যৌথ পঞ্চম সর্বোচ্চ। তাঁর সামনে কেবল জ্যাক হবস (৯৪২), রিকি পন্টিং (৯৪২), লেন হাটন (৯৪৫) ও ডন ব্র্যাডম্যান (৯৬১)। রাঁচির দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরিতে ব্যাটিং র্যাংকিংয়ের দুইয়ে উঠে এসেছেন চেতশ্বর পূজারা। বিরাট কোহলি রয়েছেন চারে। বোলিং র্যাংকিংয়ে রবীন্দ্র জাদেজা এককভাবে এখন শীর্ষে। তাঁর রেটিং পয়েন্ট ক্যারিয়ার সেরা ৮৯৯ আর দুইয়ে নেমে যাওয়া রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ৮৬২। এক ধাপ এগিয়ে তিনে উঠে এসেছেন রঙ্গনা হেরাথ।
শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সিরিজ ড্র করায় ৫ রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে বাংলাদেশের। ৬৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে ৯ নম্বরে। আটে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট ৬৯। ১ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের শীর্ষে থাকা নিশ্চিত হওয়ায় এক মিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট পাচ্ছেন কোহলিরাই। ধর্মশালায় শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া হারলে দুইয়ে উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। আইসিসি
মাশরাফির ব্যাটে পুরোনো ঝড়

মাশরাফির ব্যাটে পুরোনো ঝড়


কলম্বোয় ঝড় তুললেন মাশরাফি। ফাইল ছবিকলম্বোয় ঝড় তুললেন মাশরাফি। ফাইল ছবিমাশরাফি বিন মুর্তজা এমনই। ব্যাটিংটা যেন করেন ‘মুড’ ভালো থাকলে! যখন খেলেন, তখন ফুৎকারেই উড়িয়ে দেন বোলারদের। উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন দলের সেরা ব্যাটসম্যানের চেয়েও। বেশ কিছু দিন বিরতির পর আজ যেমন কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব মাঠে ঝলসে উঠল তাঁর ব্যাট।
শ্রীলঙ্কা বোর্ড সভাপতি একাদশের বিপক্ষে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত ২ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। হারটা আরও বড় হতে পারত। লঙ্কানদের ৩৫৫ রানের সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে ২৩৯ রান হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। সেই সময়ই মাশরাফি নেমে ম্যাচটা প্রায় নিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশের দিকে। ৩৫ বলে ৪টি করে চার ও ছক্কায় ৫৮ রান করলেন। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে অষ্টম উইকেটে ১০১ রানের জুটিতে দল তো প্রায় জিতেই গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়ে ফিরতে পারলেন না। ৪৯তম ওভারে তাঁর ফেরাই শেষ পর্যন্ত হয়ে গেল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
তবে সীমিত ওভারের সিরিজে তিনি যে শ্রীলঙ্কাকে কেবল বল নয়, ব্যাট হাতেও ভোগাতে প্রস্তুত, সেই বার্তাটা দিয়ে রাখলেন মাশরাফি।
মাশরাফির চার ছক্কার দুটি গেছে আকিল দনাঞ্জায়ার ওপর দিয়ে। বাকি দুটি মিলিন্দা সিরিবর্ধনে ও চতুরঙ্গ ডি সিলভার বলে। চারজনই স্পিনার—মাশরাফি যাদের ওপর চড়াও হতে ভালোবাসেন। ম্যাচের রংটাই বদলে দিয়েছিলেন এক হাতে। জয়ের জন্য ১৫ রান বাকি থাকতে লাহিরু মাদুশকানার বলে থিসারা পেরেরাকে ক্যাচ না দিলে ম্যাচে বাংলাদেশ হয়তো জিতেই যেত।
‘অলরাউন্ডার’ মাশরাফিকে পাওয়া যায় মাঝেমধ্যে। গত প্রিমিয়ার লিগে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের হয়ে ফতুল্লা স্টেডিয়ামে ৫০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। গত বিপিএলে ‘ব্যাটসম্যান’ মাশরাফির কল্যাণে বেশ কয়েকটি ম্যাচ জিতেছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। 
বাংলাদেশের হয়ে ‘অলরাউন্ডার’ মাশরাফিকে পাওয়া গেছে বেশ কবার। ২০-৩০-৪০-এর ঘরে বেশ কিছু সংক্ষিপ্ত ঝোড়ো ইনিংস আছে। ওয়ানডেতে অবশ্য সর্বশেষ ফিফটি করে ব্যাট উঁচিয়েছিলেন ১১ বছর আগে। ঢাকায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন অপরাজিত ৭১। টেস্টে আছে ৩ ফিফটি। এর দুটি ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় পরপর দুই টেস্টে ভারতের বিপক্ষে। চট্টগ্রামে করেছিলেন ৭৯, ঢাকায় ৭০। টেস্টে শেষ ফিফটিটি ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। 
২০০৭ সালে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে দিনেশ মঙ্গিয়ার বলে পরপর চারটি ছক্কার কথা ভুলে গেছেন—বাংলাদেশের এমন ক্রিকেটপ্রেমী বিরল। এই তো গত বছর এশিয়া কাপে খুবই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর ছোট্ট একটা ইনিংস বাংলাদেশের জয়ে রেখেছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
আজ কলম্বোয় মাশরাফি যে ইনিংসটি খেললেন, এই ইনিংসটি তাঁর ‘অলরাউন্ডার’ সত্তারই প্রকাশ। আবির্ভাবের সময়ই ২০০১ সালে অনূর্ধ্ব ১৭ এশিয়া কাপে কুয়েতের বিপক্ষে ১৭ বলে ৬০ রান করে প্রথম জানান দিয়েছিলেন তাঁর ‘অলরাউন্ডার’ সত্তার। অবশ্য অ্যান্ডি রবার্টস তাঁর মধ্যে ‘অলরাউন্ডার’ নয়, প্রতিভাধর পেসারের সম্ভাবনা দেখেছিলেন। দিয়েছিলেন সেই সার্টিফিকেট। 
ক্যারিয়ারের পুরোটাজুড়ে ইনজুরির সঙ্গে লড়াই না করলে গল্পটা হয়তো অন্য রকম হতে পারত। তবে মাশরাফির মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝিলিক দিয়ে গেছে তাঁর ‘অলরাউন্ডার’ সত্তা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবারের সিরিজে সেই সত্তা জ্বলে উঠলে বাংলাদেশকে ঠেকায় কে!
৩৫৪ তাড়া করে বাংলাদেশের ৩৫২

৩৫৪ তাড়া করে বাংলাদেশের ৩৫২


টেস্ট জয়ের রেশ থাকতে থাকতেই ওয়ানডের প্রস্তুতিতে নেমে পড়া। প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ অবশ্য জিততে পারেনি। তবে শ্রীলঙ্কা বোর্ড একাদশের ৭ উইকেটে ৩৫৪ রানের জবাবে বাংলাদেশ তুলতে পেরেছে ৮ উইকেটে ৩৫২। জিতলে অবশ্যই ভালো হতো। তবে ২ রানে হারলেও দলের ব্যাটিং অনুশীলন বেশ ভালো হলো। ৩৫ বলে ৫৮ করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি। ৭২ করেছেন সাব্বির। মোসাদ্দেক ৫৩। সৌম্য ৪৭। 
৭১ রান করে অপরাজিত ছিলেন টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া মাহমুদউল্লাহ। মাশরাফির সঙ্গে অষ্টম উইকেটে ১০১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের কাছেও নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ বলে ৪ রানের সমীকরণ শেষ পর্যন্ত মিলিয়ে দিতে পারেননি। 
কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব মাঠে টসে জিতে শ্রীলঙ্কা সভাপতি একাদশকে ব্যাট করতে পাঠায় বাংলাদেশ। বীরাক্কোদির ৬৭, কুশল পেরেরার ৬৪, ধনঞ্জয়া ডি সিলভার ৫২ আর থিসারা পেরেরার ৪১ রানে বড় পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক লঙ্কান দল ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে তোলে ৮৫ রান। 
বাংলাদেশের বোলারদের জন্য দিনটা ভালো কাটেনি। অধিনায়ক মাশরাফি ৯ ওভারে ৬৬ রানে দিয়ে নিয়েছেন ১টি উইকেট। তাসকিনও একটি উইকেট পেয়েছেন ৬ ওভারে ৫১ রান দিয়ে। উইকেট পেয়েছেন সানজামুল ইসলাম। ৬ ওভার বল করে ২৭ রানে ১ উইকেট তাঁর। একটি করে উইকেট নিয়েছেন আবুল হাসান ও সাইফউদ্দিন।
জবাবে ইনিংসের প্রথম বলে বাংলাদেশ হারায় ইমরুল কায়েসকে। বাংলাদেশের জন্য তা ছিল চাপের। কিন্তু শুরুর ধাক্কা সামলে নেয় বাংলাদেশ। ১১৬ রানের জুটি গড়েন সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান। তিন নম্বরে ব্যাট করা সাব্বির ৬৩ বলে ৭২ করেছেন ১১টি চার ও এক ছক্কায়। সৌম্যের ৪৩ বলে ৪৭ রানের ইনিংসে আছে ৫টি চার ও ২ ছক্কা। 
দলীয় ১১৬ রানে ফেরেন সৌম্য, সাব্বির আউট হন ১২৪ রানের মাথায়। এরপর মুশফিকুর রহিম মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে আরও ২৮ রান যোগ করেন। ব্যক্তিগত ২০ রানে মুশফিক ফেরেন। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ১৫২। মোসাদ্দেক টেনে নিচ্ছিলেন ৫০ বলে ৫৩ করে। ৪টি চার ও ২ ছক্কা মেরেছেন গত টেস্টের অন্যতম নায়ক এই তরুণ। মোসাদ্দেক ফেরার ২১ রানের মধ্যে শুভাগত (২) ও সানজামুল (৬) আউট হলে বিপদেই পড়ে বাংলাদেশ। 
তখনই মাশরাফির পাল্টা ঝড় তোলা শুরু। অন্য প্রান্তে মাহমুদউল্লাহ মূলত সঙ্গ দিচ্ছিলেন। এক-দুই রান করে সচল রেখেছিলেন ইনিংসের চাকা। শেষ ২ ওভারে ১৬ রান লাগে—সমীকরণ কঠিন কিছু ছিল না। কিন্তু ৪৯তম ওভারে ৪ রান তোলার পাশাপাশি মাশরাফিকেও হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। মাশরাফির ইনিংসে আছে ৪টি করে চার ও ছক্কা। 
শেষ ওভারে ১২ রানের জায়গায় মাহমুদউল্লাহ তুলতে পারলেন ১০। পঞ্চম বলে চার মেরেছিলেন। কিন্তু ষষ্ঠ বলে চার মারতে পারলেন না। নিলেন ১ রান। 
এই ম্যাচে সাকিব-মোস্তাফিজ খেলেননি। তামিমও ছিলেন না। ২৫ মার্চ তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
শ্রীলঙ্কা বোর্ড সভাপতি একাদশ : ৫০ ওভারে ৩৫৪/৭ (বিরাক্কোডি ৬৭, কুশল পেরেরা ৬৭, ধনঞ্জয়া ৫২; সানজামুল ১/২৭, আবুল হাসান ১/৩৫, মাশরাফি ১/৬৬, তাসকিন ১/৫১)
বাংলাদেশ: ওভারে (ইমরুল ০, সৌম্য ৪৭, সাব্বির ৭২, মুশফিকুর ২০, মোসাদ্দেক ৫৩, মাহমুদউল্লাহ ৭১*, শুভাগত ২, সানজামুল ৫, মাশরাফি ৫৮*; চতুরাঙ্গা ২/৫৩, আকিলা দনঞ্জয়া ৩/৬১, মদুশঙ্কা ১/৩৯)।
ফল: শ্রীলঙ্কা একাদশ ২ রানে জয়ী।

Tuesday, March 21, 2017

 আইসিসির নতুন আর্থিক মডেল মানে না ভারত

আইসিসির নতুন আর্থিক মডেল মানে না ভারত

আইসিসির বিদায় নেওয়া চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহরের নেতৃত্বে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে বেশ কিছু বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছিল আইসিসির সর্বশেষ সভায়। তাতে ‘বিগ-থ্রি’ নীতি বাতিল করে নতুন একটি সুষম অর্থনৈতিক বণ্টনপদ্ধতিতে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে নতুন এই অর্থনৈতিক মডেল তারা মানবে না।
গত রোববার আইসিসি প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ইয়ান হিগিনসকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় বিসিসিআইয়ের প্রধান নির্বাহী রাহুল জোহরি লিখেছেন, ‘এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা আইসিসির ধরন বদলে দেবে, নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সদস্যদের স্বায়ত্তশাসনে।’ বিসিসিআইয়ের প্রধান নির্বাহীর ই-মেইলটি হাতে এসেছে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর। তারা জানিয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড নতুন অর্থনৈতিক মডেলকে বলছে ‘বিধিবহির্ভূত’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’। অর্থনৈতিক বণ্টনপদ্ধতিকে তারা ‘অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি’ বলছে।
আইসিসির নতুন অর্থনৈতিক মডেলে এক হাজার কোটি টাকার বেশি আয় কমে যাবে ভারতের। ২০১৪ সালে পাস হওয়া ‘বিগ-থ্রি’ নীতিতে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আইসিসির সম্ভাব্য আয়ের বণ্টনের একটা বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, আগামী আট বছরে আইসিসির আয়ের ২৭.৪ শতাংশই যাবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের কাছে। এই ২৭.৪ শতাংশের মধ্য ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ভাগে পোর কথা ছিল মাত্র ৭.১ শতাংশ অর্থের (ইংল্যান্ডের ৪.৪, অস্ট্রেলিয়ার ২.৭)। বাকি ২০.৩ ভাগ অর্থই জমা হওয়ার কথা ছিল ভারতের কোষাগারে।
‘বিগ থ্রি’র সেই ধারণা থেকে সরে আসতে চেয়েছে আইসিসি। নতুন অর্থনৈতিক মডেলে চেষ্টা করা হয়েছে সাম্য নিয়ে আসার। ক্রিকইনফোর হিসাব অনুযায়ী, নতুন বণ্টননীতি হলেও ভারত সর্বোচ্চ ২৫৫-২৬০ মিলিয়ন ডলার আয়ের ভাগ পাবে।
তবে নতুন প্রস্তাবে উপকৃত হওয়ার কথা বাংলাদেশের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সম্ভাব্য আয়ের পরিমাণ ৭৫-৮০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১১০-১১৫ মিলিয়ন ডলার হওয়ার কথা। টাকার অঙ্কে বিসিবির আয় বাড়ার এই পরিমাণ ২৭৭ কোটি টাকা। ২০২৩ পর্যন্ত আইসিসির আয় ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ধরে নিয়েই আয়ের সম্ভাব্য এই বণ্টননীতির প্রস্তাব করা হয়েছিল। আইসিসির আয় বাড়লে সদস্য বোর্ডগুলোর আয়ের ভাগও বাড়বে।
নতুন এই অর্থনৈতিক মডেলের বিরোধিতা করে বিসিসিআই প্রধান নির্বাহী আইসিসিকে লিখেছেন, ‘প্রস্তাবিত নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়ে যেকোনো আলোচনা হতে হবে স্পষ্ট লিখিত ও গ্রহণযোগ্য নীতিতে। আইসিসির আয়ে বিসিসিআইয়ের যে অবদান, সেটির স্বীকৃতি থাকতেই হবে। এসব কারণেই আমরা প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে একমত নই।’ সূত্র : ক্রিকইনফো।
 ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল আকরাম–ইনজামামের!

ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল আকরাম–ইনজামামের!

কাদির মনে করেন, আকরাম-ইনজির ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। ফাইল ছবি।কাদির মনে করেন, আকরাম-ইনজির ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। ফাইল ছবি।ফাঁসিতে ঝোলা উচিত ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের দুই সেরা ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম ও ইনজামাম-উল-হকের! পাকিস্তানের কিংবদন্তি লেগ স্পিনার আবদুল কাদিরের মতে, এই দুজন ছিলেন নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারির দুই হোতা। কাদির কেবল এই দুইয়েই থেমে থাকেননি। বলেছেন ওয়াকার ইউনিস ও মুশতাক আহমেদের নামও। তিনি বিশ্বাস করেন, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এই তারকাদের কঠোর শাস্তি হলে পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে স্পট-ফিক্সিং কেলেঙ্কারির বাকি ঘটনাগুলো ঘটত না।
নব্বইয়ের দশকে ক্রিকেট দুনিয়ায় হইচই ফেলে দিয়েছিল এই ম্যাচ পাতানো ইস্যু। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এই কেলেঙ্কারি তদন্তে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশনও গঠন করেছিল। বিচারপতি মালিক কাইয়ূমের নেতৃত্বাধীন সেই কমিটি একটি প্রতিবেদনও পেশ করেছিল। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী আজীবন নিষিদ্ধ হন পাকিস্তানের অন্যতম সাবেক অধিনায়ক সেলিম মালিক। নিষিদ্ধ হন পেসার আতাউর রেহমান। আকরাম, ওয়াকার, ইনজামাম ও মুশতাকের বিরুদ্ধেও তদন্ত হয়েছিল। কিন্তু প্রমাণের অভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন তাঁরা। তবে আকরামকে অধিনায়কত্ব থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। কাইয়ূম কমিশন সে সময় তদন্ত চালিয়েছিল ওপেনার সাঈদ আনোয়ারের বিরুদ্ধেও। এই ক্রিকেটারদের জরিমানা ও পাকিস্তান ক্রিকেটের সম্পৃক্ত না করার সুপারিশও করেছিল এই কমিশন।
কাদির প্রশ্ন তোলেন, ‘কাইয়ূম কমিশনের সুপারিশ কখনোই পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলো না কেন?’ তিনি সেলিম মালিক ও আতাউর রেহমানের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই দুজনেও হয়তো বেঁচে যেত যদি তারা তাদের সেরা ফর্মে থাকত। ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে সেলিম মালিক ও আতাউর রেহমানকে “বলির পাঁঠা” বানানো হয়েছিল। এটা আমাদের দেশে (পাকিস্তানে) সব সময়ই হয়। ছোটখাটো অপরাধীকে শাস্তি দিয়ে বড় অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ওয়াসিম, ওয়াকার, ইনজামাম ও মুশতাক কখনো না কখনো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের হয়ে কাজ করেছে। এই যদি হয়, তাহলে কাইয়ূম কমিশনের সুপারিশ কীভাবে বাস্তবায়িত হলো?’
সম্প্রতি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) হইচই ফেল দিয়েছে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি। এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত শেষে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে পাঁচ ক্রিকেটারের ওপর। এরা হলেন শারজিল খান, খালিদ লতিফ, শাহজাইব আহমেদ, মোহাম্মদ ইরফান ও নাসির জামশেদ। সূত্র : এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

সাকিবের কাছে আবার তিন মুকুট

সাকিবের কাছে আবার তিন মুকুট

সাকিব আবার এক নম্বর। ছবি: এএফপিসাকিব আবার এক নম্বর। ছবি: এএফপিত্রিমুকুট ফিরে পেলেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের শততম টেস্টের পারফরম্যান্স দিয়েই টেস্ট অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছেন সাকিব। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে আগে থেকেই এক নম্বর অলরাউন্ডার সাকিব আজ প্রকাশিত সর্বশেষ র‍্যাঙ্কিংয়ে পেছনে ফেলেছেন ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে। সাকিবের পয়েন্ট এখন ৪৩১, অশ্বিনের ৪০৭। ৩৮৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনে অশ্বিন সতীর্থ রবীন্দ্র জাদেজা। তিন ধরনের ক্রিকেটে অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে সাকিব আবার একে।
অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে পেছনে থাকলেও টেস্ট বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ে অশ্বিনকে দুইয়ে ঠেলে এককভাবে শীর্ষ উঠছেন রাঁচি টেস্টে ৯ উইকেট নেওয়া জাদেজা। ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে নিজের অবস্থান আরও পোক্ত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন স্মিথ। রাঁচিতে অপরাজিত ১৭৮ ও ২১ রানের ইনিংস খেলা স্মিথের রেটিং পয়েন্ট ৯৪১। টেস্ট ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি রেটিং পয়েন্ট পেয়েছেন শুধু চারজন—ডন ব্র্যাডম্যান (৯৬১), লেন হাটন (৯৪৫), জ্যাক হবস (৯৪২) ও রিকি পন্টিং (৯৪২)। চার ধাপ এগিয়ে দুইয়ে উঠেছেন ভারতের চেতেশ্বর পূজারা।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্যারিয়ার-সেরা রেটিং পয়েন্ট পেয়েছেন ব্যাটিংয়ে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম এবং বোলিংয়ে মোস্তাফিজুর রহমান। পি সারায় প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরি সাকিবকে এগিয়ে দিয়েছে পাঁচ ধাপ। ২১-এ ওঠা সাকিবের পয়েন্ট এখন ৬৭৬। নয় ধাপ এগিয়ে ২৪-এ উঠেছেন তামিম। ২৯ থেকে ২৮-এ ওঠা মুশফিকের পয়েন্ট ৬৪৪। ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ শেষেই ৮৮ নম্বরে জায়গা পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন।
বোলিংয়ে ১৮ থেকে ১৭-তে উঠেছেন সাকিব। ২০ ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ার সেরা অবস্থান ৪৭-এ উঠেছেন মোস্তাফিজ।
অবস্থান না বদলালেও সিরিজ ড্র করায় দলীয় র‍্যাঙ্কিংয়ে ৫ পয়েন্ট বেড়েছে বাংলাদেশের। ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ আছে নয়ে। অষ্টম স্থানের ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ৬৯। তথ্যসূত্র: আইসিসি।

Monday, March 20, 2017

নিজেকে ভাগ্যবান মানছেন মাশরাফি

নিজেকে ভাগ্যবান মানছেন মাশরাফি




সাকিবের আরও এক অনন্য রেকর্ড

সাকিবের আরও এক অনন্য রেকর্ড


সাকিবের আরও এক অনন্য রেকর্ড
টেস্ট ক্রিকেটের ১৪০ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসের অলিতে গলিতে বহু বাঁহাতি স্পিনার পড়ে আছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে কিংবদন্তী হয়েছেন কয়জন? যে কইয়জনই হোক সাকিব আল হাসানও কিন্তু আছেন সে তালিকায়!
কলম্বো টেস্টের দুই ইনিংসে সাকিব নিয়েছেন মোট ছয় উইকেট। যার ফলে দুই ইনিংস মিলিয়ে তার মোট উইকেট এখন ১৭৬টি। বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে যা সবচেয়ে বেশি উইকেট নেয়ার তালিকায় সাকিবকে নিয়ে এসেছে পাঁচ নম্বরে।
এই তালিকার এক নম্বর বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ; কলম্বো টেস্টে সাকিবেরই প্রতিপক্ষ ছিলেন তিনি। এই সিরিজেই তিনি ছাড়িয়ে গেছেন এতোদিন এক নম্বরে থাকা ড্যানিয়ে ভেট্টরিকে। হেরাথের মোট উইকেট এখন ৩৭০টি। আর ভেট্টরির শিকার ৩৬২টি।
ভেট্টরি এখন নেমে গেছে দুইয়ে। তিন নম্বরে আছেন ইংল্যান্ডের ড্যারেক আন্ডারউড। তার শিকার মোট ২৯৭টি। সাকিবের ঠিক আগে, অর্থাৎ চার নম্বরে থাকা ভারতীয় স্পিনার বিষেন সিং বেদির শিকার ২৬৬টি।
সবচেয়ে বেশি উইকেট নেয়া বাঁহাতি স্পিনারদের তালিকায় উপরের দিকে উঠতে গেলে সাকিব এখন পাড়ি দিতে হবে লম্বা একটা পথ। কারণ তার আগে থাকা বেদির শিকার যে তার চেয়ে ৯০টি বেশি। ২৯ বছর বয়সী সাকিবের জন্য কাজটা খুব বেশি কঠিন নয় নিশ্চয়।

কলকাতার সংবাদপত্রে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রশংসা

বাংলাদেশে ক্রিকেট দল তাদের শততম টেস্ট জয়ে কলকাতার বিভিন্ন সংবাদপত্রে গুরুত্ব দিয়ে তা প্রকাশ করেছে।বাংলাদেশের ক্রিকেট দল তাদের শততম টেস্ট ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার মতো একটি শক্তিশালী দলকে পরাজিত করায় আজ সোমবার কলকাতার বিভিন্ন ভাষার দৈনিক সংবাদপত্র গুরুত্ব দিয়ে তা প্রকাশ করেছে। গতকাল রোববার শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশ এই জয় পায়।
এই জয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের প্রশংসা করা হয়েছে কলকাতার সংবাদপত্রে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভবিষ্যতে এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে এসব প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশের জয়ের ওপর দৈনিক আজকাল খেলার পাতায় প্রধান প্রতিবেদন করেছে। চার কলামজুড়ে ছবিসহ প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়েছে ‘শততম টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়’।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক ‘এই সময়’ খেলার পাতায় শিরোনাম করেছে, ‘তামিমের ব্যাটে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিল বাংলাদেশ’। সঙ্গে দুটি ছবি। একটিতে রয়েছে জয়ের নায়ক তামিম ইকবালের ছবি। আরেকটি জয়ের মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উল্লাসের ছবি।
আনন্দবাজার পত্রিকা খেলার পাতায় প্রকাশিত ৬ কলামের খবরে শিরোনাম করেছে, ‘তামিমের ব্যাটে শততম টেস্টে বাংলার জয়গান’। সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের বিজয় উল্লাসের একটি ছবি।
দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন খেলার পাতায় চার কলামজুড়ে ছবিসহ প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘শততম টেস্ট স্মরণীয় করে রাখল বাংলাদেশ, প্রথমবার লঙ্কা জয় টাইগারদের’।
ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ শিরোনাম করেছে, ‘হান্ড্রেডথ টেস্ট অ্যান্ড মেমোরেবল উইন’। সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের ছবি।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার শিরোনাম, ‘বাংলাদেশ উইন হান্ড্রেডথ টেস্ট, শেয়ার সিরিজ উইথ শ্রীলঙ্কা’। সঙ্গে একটি ছবি।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকা বাংলাদেশের জয় নিয়ে দুটি প্রতিবেদন করেছে। ক্রীড়া পাতায় ছয় কলামজুড়ে প্রধান খবরের শিরোনাম করা হয়েছে, ‘আ টন টু স্যাভর ফর দ্য টাইগার্স’। সঙ্গে চার কলামজুড়ে বাংলাদেশ দলের জয়ের মুহূর্তের উল্লাসের ছবি।