Sunday, April 9, 2017

নিজেরই এই ৫ বদভ্যাস হতে পারে আপনার অবসাদের কারণ

নিজেরই এই ৫ বদভ্যাস হতে পারে আপনার অবসাদের কারণ

depression
চারপাশে ক্রমশই বেড়ে চলেছে অবসাদ। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা অবসাদ। আমাদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, এমনকী নিজেরাও কখনও অবসাদে ভুগি। কখনও নিজেরা বুঝতেও পারি না ঠিক কী কারণে হচ্ছে অবসাদ। অনেক সময়ই আমাদেরই কিছু বদভ্যাস হয়ে ওঠে অবসাদের কারণ। যদি আপনার থেকে থাকে এই অভ্যাসগুলো তা হলে অবশ্যই কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন।
১। ধূমপান ও মদ্যপানের নেশা
কাজের চাপ, স্ট্রেস, সম্পর্কের টানাপড়েন থেকে হওয়া মানসিক চাপ কাটাতে অনেকেই ধূমপান বা মদ্যপানের মধ্যে মুক্তি খোঁজেন। এই সব নেশাই কিন্তু এক সময় মাথায় চেপে বসে এবং নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দীর্ঘ দিন ধরে নেশা অবসাদ ডেকে আনে।
২। নিজেকে একা করে নেওয়া
নিউক্লিয়াস ফ্যামিলি, বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান, প্রতিযোগিতার কারণে অনেকেই ছোট থেকে একা থাকতে অভ্যস্ত হন। বড় হয়েও তারা অনেক সময়ই পরিবার, বন্ধু-বান্ধবের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এই একাসেরে অভ্যাস কিন্তু চাপা অবসাদ ডেকে আনে।

আরও পড়ুন: এই কারণগুলোর জন্যই আপনার ফ্রোজেন ফল, সব্জি কেনা উচিত

৩। অতিরিক্ত নিউজ ফিড দেখা
আপনি কি খবর পড়তে, সব সময় আপডেটেড থাকতে ভালবাসেন? সেই কারণেই সারা দিন টিভিতে খবর দেখেন বা নিজের ফোনে নিউজ ফিড সার্চ করে চলেন। এটা কিন্তু একটা নেশা। কিন্তু মনে রাখবেন, আমাদের চারপাশের বেশির ভাগ খবরই কিন্তু নেগেটিভ। ক্রমাগত দুর্ঘটনা, খুন, ধর্ষণ, বিস্ফোরণের খবর দেখতে দেখতে কিন্তু আমাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যা আমাদের ভাবনা-চিন্তাকে নেতিবাচক করে দেয়। ফল হয় অবসাদ।
৪। অতিরিক্ত বা অস্বাস্থ্যকর খাওয়া
যখনই মুড অফ হয় বা রাগ হয় বা একঘেয়ে লাগে, তখন অনেকেরই অভ্যাস থাকে মিষ্টি খাওয়ার। কেউ কেউ চকোলেট, কুকিজ, আইসক্রিম খেয়ে রাগ কমান। অতিরিক্ত চিনি ও রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট থাকার কারণে এই সব খাবার মুড ভাল করে দিতে পারে। কিন্তু এই সব কমফর্ট ফুডই হয়ে ওঠে ওজন বাড়া, ডায়াবেটিস বা অবসাদের অন্যতম কারণ।
৫। অতীতেত ভুলের জন্য অনুতাপ করা
মনোবিদরা একে বলেন ‘রুমিনেশন।’ অতীতে কোনও ভুল করেছেন বা আপনার সঙ্গে কোনও অন্যায় হয়েছে তা ভেবে বর্তমানেও কষ্ট পাওয়া, অনুতাপ করা। বার বার প্রশ্ন করা কেন আমার সঙ্গেই হল? অতীতকে কখনই বদলাতে পারবেন না। কিন্তু বার বার এ ভাবে ভাবতে ভাবতে বর্তমানকেও অস্বীকার করছেন, ভবিষ্যতকেও ঠিক মতো গ্রহণ করতে পারবেন না। ফলে অবসাদ বাড়তেই থাকবে।
বিশের কোঠায় ত্বকের যত্ন

বিশের কোঠায় ত্বকের যত্ন



২০ বছর পার করেছেন। ৩০ বছরে পা দেওয়া হয়নি। ত্বকে বলিরেখা পড়া শুরু করেনি। চামড়া কুঁচকেও যায়নি। তবে ছোটখাটো কিছু সমস্যা অহরহই হয়তো দেখা দিচ্ছে। একটু যত্ন নিলে হয়তো ঠিকও হয়ে যায়। এই বয়সের একটা ভালো দিক এটা। তবে এই বয়সে ত্বকের যতটা যত্ন নেবেন, পরবর্তী সময়ে ত্বক ততটাই চকচক করবে। বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, ২০ বছরে পা দেওয়ার পরপরই ত্বকের নিয়মিত যত্ন নেওয়া শুরু করা উচিত। শুধু যে বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য এ কাজগুলো করতে হবে তা কিন্তু নয়। বরং ভেতর থেকেও ত্বক ভালো থাকবে সব সময়।
মেকআপ তোলা
এ কথাটা বারবার বলা হয়। কিন্তু কাজটা করা হয় কি? সারা রাত মুখে মেকআপ লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা প্রায়ই হয়ে যায়। বাহানা একটাই—ক্লান্তি। লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া, ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ, অসমান জমিন ইত্যাদি সমস্যায় ভুগতে হয় শুধু মেকআপ না তোলার কারণেই। যতই ক্লান্ত থাকুন, মেকআপ তুলে ঘুমাতে যাবেন। লাভ আপনারই হবে।
সানস্ক্রিন ব্যবহার
বাসা থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাওয়া, ত্বকের রং অসমান হওয়ার পাশাপাশি রোদ থেকে ত্বকের অনেক ধরনের ক্ষতিও হয়ে যায়। বয়স কম থাকুক বা বেশি—সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। না হলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে শুরু করবে।
ক্রিম লাগিয়ে বাকি কাজ
মুখের ত্বকে মেকআপ দেওয়ার আগে ভালো করে ক্রিম লাগিয়ে নিন। মেকআপ সরাসরি ত্বকের ওপর লাগানোও উচিত নয়। অন্য সব ক্ষতি বাদ দিন, মেকআপও কিন্তু ভালোভাবে বসে না চেহারায়।
পরিষ্কার ত্বকে ব্যায়াম
ব্যায়াম করার সময় আপনার ত্বক ক্ষতিকারক টক্সিনগুলো বের করে দেয়। ব্যায়াম করার সময় আপনার মুখে যদি মেকআপ লাগানো থাকে, তাহলে আপনার ত্বক নিশ্বাস ফেলার সময় সঠিকভাবে টক্সিন নির্গত করতে পারে না। ফলাফল পরবর্তী সময়ে ত্বকে নানা রকম ইনফেকশন দেখা দেয়।
স্বাস্থ্যসম্মত রুটিন
যত কাছের মানুষই হোক না কেন, মেকআপ ব্রাশ অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করার অভ্যাস থাকলে সেটা বন্ধ করুন। নিজের তোয়ালে ব্যবহার করুন। ভালো ও পরিষ্কার থাকার অভ্যাস না থাকলে ব্রণ হয়, ত্বক ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। আপনার নিজের দোষ-গুণেই কিন্তু এগুলো হবে।

Monday, April 3, 2017

মন ভালো করার আজব সাতটি দাওয়াই!

মন ভালো করার আজব সাতটি দাওয়াই!


মন ভালো করার আজব সাতটি দাওয়াই!
২১ শতকের ইয়ং ব্লাডেরা বেড়ে উঠছে প্রতিযোগিতার মাঝে। সকালে চোখ খোলা থেকে রাতে শুতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত একটাই চিন্তা, ক্লাসে ফার্স্ট হব কী করে, অফিসে সেরার সেরা হওয়ার অন্য কোনও উপায় আছে কী! এই সবই নানান চিন্তা চলছে মাথায়। ফলে কোনও কোনও সময় মনের ক্লান্ত হয়ে পড়াটা মোটেও অবাক করার মতো ঘটনা নয়।
আর মন যখন ভাল থাকে না, তখন ঘুর পথে অবসাদন কখন যে আমাদের জীবনকে দুর্বিসহ করে তোলে তা অনেক ক্ষেত্রে বোঝাই যায় না।
থ্রি ইডিয়েট সিনেমার একটা সিন মনে আছে। যেখানে লবো নামের এক ছাত্র জীবন সংগ্রমে লড়ে উঠতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। কী হয়েছিল তার, মনে আছে আছে কি?
আমাদের সঙ্গে প্রায়শই যা ঘটনা ঘটে থাকে, তাই-ই হয়েছিল ২৩ বছর বয়সী ওই ছাত্রের সঙ্গেও। প্রথমে প্রতিযোগীতায় অংশ নেওয়া। তার পর নানা কারণে পিছিয়ে পড়া। মানসিক চাপ, সেখান থেকে অবসাদ এবং মৃত্যু। তাই তো নিজেদের মনকে আগলে রাখাটা একান্ত প্রয়োজন। না হলে কিন্তু বিপদ!
মন খারাপ থেকে দূরে থাকাটা সম্ভব নয়। কিন্তু এমন কিছু সহজ পদ্ধতি আছে, যাদের সাহায্য নিলে খুব সহজেই মন খারাপ বা অবসাদের মতো বিষাক্ত সাপেদের মেরে ফেলা অনেকাংশেই সম্ভব হয়। কী এই সব সহজ পদ্ধতি? চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে।
প্রসঙ্গত, নানা কারণে অবসাদের শিকার হতে পারে কেউ। যেমন- জীবনযাত্রা, কাজের চাপ, অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস, জেনেটিক কারণ এবং মস্তিষ্কে কেমিকেল ইমব্যালেন্স। এই লেখায় আলোচিত পদ্ধতিগুলি এইসব কারণগুলির প্রভাবকে কমিয়ে মনকে পুনরায় চাঙ্গা করে চুলতে দারুন কাজে আসে। তাই তো মন খারাপ নামক সেই বিষাক্ত সাপটি আপনাদের দোরগোড়ায় আসার আগেই এই লেখাটি পড়ে নিজেকে প্রস্তুত করে নিন। কে বলতে পারে কখন কী পরিস্থিতি এসে যায়!
ডিপ্রেশন বা মন খারাপের প্রকোপ কমাতে নানাবিধ আধুনিক চিকিৎসা আছে। তবে তার আগে এই লেখায় আলোচিত সহজ পদ্ধতিগুলি বাস্তবায়িত করে দেখতে পারেন। উপকার যে পাবেনই, সে কথা হলফ করে বলতে পারি।
১
মন খারাপ থাকবে যখন, তখন বেশি করে মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করবেন। তাতে দেখবেন মন ভাল হয়ে যাবে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে যে কাউকে সাহায্য করার সময় নানা কারণে আমাদের শরীরে বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে মন একেবারে চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
২
মন খারাপ থাকলেই প্রথম যে কাজটি আমরা করি। তা হল সমাজের থেকে নিজেদের আলাদা করে নিই। ফলে মন খারাপ আরও বেড়ে গিয়ে এক সময়ে তীব্র ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই তো মন খারাপের সময় যত বেশি করে সম্ভব পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। এমনটা করলে দেখবেন মন ভাল হতে শুরু করে দেবে।
৩
মন ভাল না থাকলে অল্প সময় একটু রোদে হাঁটাহাঁটি করবেন। এমনটা করলে কি হবে জানেন? আমাদের শরীরে ভিটামিন-ডি এর মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, যা মস্তিষ্কে ডোপামিনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দিয়ে মনকে একেবারে আনন্দে ভরিয়ে দেবে।
৪
মনের অবস্থা যখন একেবারে ঠিক নেই, তখন নিজের চারিপাশটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করবেন। এমনটা করলে দেখবেন মন হালকা হতে শুরু করেছে। আসলে যত সুন্দর পরিবেশে থাকবেন, তত তার সুপ্রভাব পড়বে মনের ওপর। ফলে মন খারাপ হওয়ার কোনও সুযোগই থাকবে না।
৫
মিউজিক এবং আর্ট থেরাপির মাধ্যমে ডিপ্রেশন কমিয়ে ফেলে মনকে চাঙ্গা করে তোলা বাস্তবিকই সম্ভব। তাই তো মন খারাপের সময় গান শোনার পরামর্শ দেন মনোবিরা। এক্ষেত্রে নিজের পছন্দ মতো যে কোনও নতুন কিছু শিখতে শুরু করে দিন। ফল পাবেন একেবারে হাতেনাতে।
৬
পোষ্য জন্তু মনের ক্ষত ভরিয়ে দিতে দারুনভাবে সাহায্য করে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে বাড়িতে পোষা জানোয়ার থাকলে তার খেয়াল রাখতে গিয়ে এতটাই সময় চলে যায় যে খারাপ চিন্তা করার অবকাশই পাওয়া যায় না। ফলে মন খারাপ হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, একটি কেস স্টাডিতে একথাও প্রমাণিত হয়েছে যে, যাদের বাড়িতে পোষা মাছ রয়েছে তারা যদি মন খারাপের সময় তাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন, তাহলে মানসিক অবসাদ অনেকাংশেই হ্রাস পায়।
৭
যতটা সম্ভব কফি এবং ঐ জাতীয় পানীয় কম খাবেন, যাতে ক্যাফেইনের মাত্রা বেশি রয়েছে। কারণ ক্যাফেইন মানসিক অবসাদকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সুস্থ থাকতে খাওয়া নয়, খাওয়ার সময় কমান

সুস্থ থাকতে খাওয়া নয়, খাওয়ার সময় কমান

সুস্থ থাকতে খাওয়া নয়, খাওয়ার সময় কমান
অনেক পরিবারেই সপ্তাহের কোনও একটা দিন উপোস বা রোজা করার রেওয়াজ থাকে। কেউ সোমবার, কেউ শনিবার, আবার কেউ বা শুক্রবার উপোস বা রোজা করে থাকেন। ধর্মীয় কারণে এই উপোস বা রোজা করা হলেও এর পেছনে কিন্তু বৈজ্ঞানিক কারণ। আধুনিক ডায়েটিশিয়ানরা জানাচ্ছেন, খাওয়ার সময় কমানোর জন্যই এই উপোস বা রোজা। আর যার প্রভাবে যেমন শরীরের মেদ ঝরে, তেমনই উন্নত হয় স্বাস্থ্য। অর্থাত, সময় মেপে খাওয়া।
সময় মেপে খাওয়া কাকে বলে?
শৃঙ্খলা মেনে খাওয়াকে বলে টাইম রেস্ট্রিকটেড ফিডিং বা টিআরএফ। এই নিয়মে দিনের শুধু কিছুটা সময় খেতে হয়। বাকি সময়টা উপোস করে শরীরকে নিজস্ব কাজ করতে দিতে হয়।
কখন খেতে হবে?
টাইম রেস্ট্রিকটেড ইটিং অনেক রকম হয়। ১৮/৬ (এই নিয়মে দিনের মাত্র ৬ ঘণ্টা খেতে হয়), ১৬/৮ (এই নিয়মে দিনের ৮ ঘণ্টা খেতে হয়) ও ১২/১২ (এই নিয়মে দিনের ১২ ঘণ্টা খেতে হয়)। এর মধ্যে ১৮/৬ নিয়ম সবচেয়ে উপকারি জানাচ্ছেন ডায়েটিশিয়ানরা।
সত্যিই কি এ ভাবে খেলে কাজ দেয়?
ক্যালিফোর্নিয়ার দ্য সাল্ক ইন্সটিটিউটের গবেষকরা এই ডায়েট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন। গবেষণায় ব্যবহৃত ইঁদুরদের হাই ক্যালরিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে দেওয়া হয়। কিন্তু দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা দেওয়া হয়। দেখা গিয়েছে যেই ইঁদুরদের দিনের মধ্যে ৯ ঘণ্টা খেতে দেওয়া হয়েছিল তাদের ২৬ শতাংশ ওজন বে়ড়েছে, যাদের ১৫ ঘণ্টা খেতে দেওয়া হয়েছিল তাদের ৪৩ শতাংশ ওজন বেড়েছে ও যাদের সারা দিন ধরে খেতে দেওয়া হয়েছিল তাদের ৬৫ শতাংশ ওজন বেড়েছে।
অথচ প্রতিটা ইঁদুরকেই অস্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়া হয়েছিল। শুধু সময়ের হেরফেরে এই পার্থক্য দেখা গিয়েছে। অন্য দিকে, মোটা ইঁদুরদের এই ডায়েট দিয়ে ১২ শতাংশ ওজন কমার ঘটনাও দেখা গিয়েছে। মানুষের উপর প্রথম এই গবেষণা হয় বার্মিংহ্যামের ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টায়। সেই গবেষণাতেও এই ফল পাওয়া গিয়েছে।
ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিভিন্ন দেশের কাছে কিন্তু এই নিয়ম নতুন নয়। অনেক ধর্মেই উপোস করার প্রথা রয়েছে। সোমবার, মঙ্গলবার বা বৃহস্পতিহবার উপোস করেন অনেকেই। দিনের অর্ধেক সময় উপোস করে ব্রত পালনেরও রীতি রয়েছে হিন্দুদের মধ্যে। মুসলিমরা বছরের নির্দিষ্ট সময় রমজান মাস পালন করেন। এখানেও সেই অর্ধেক দিন উপোস করে সূর্যাস্তের পর খাওয়ার নিয়ম। গুড ফ্রাইডে-র আগের এক মাস খ্রীষ্টানরাও উপোস করে থাকেন। জৈন ও বৌদ্ধদের মধ্যেও বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন কারণে উপোস করার রেওয়াজ রয়েছে।
টাইম রেস্ট্রিকটেড ইটিং-এর ধারণা ও উপকারিতা কয়েক বছর আগে জনপ্রিয় হলেও আমাদের পূর্বপুরুষরা কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই এই নিয়মই মেনে চলতেন। অভ্যাসবশতই তাদের শরীর ১৬-১৮ ঘণ্টা বিশ্রাম পেত।
এই নিয়মে কি সব কিছুই খাওয়া যায়?
যে কোনও ভাবেই অস্বাস্থ্যকর খাবার শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। তাতে অবশ্যই ওজন কমবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যা খাচ্ছেন তার থেকেই শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি পৌঁছতে হবে। সেটা মাথায় রাখলেই বুঝে যাবেন কী খাওয়া উচিত, আর কোনটা নয়।
অন্যান্য উপকারিতা
২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে জার্নাল অব ট্রান্সলেশনাল মেডিসিনে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতালি, ব্রাজিল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাথলিটদের উপর এই টাইম রেস্ট্রিকটেড ইটিং নিয়ে গবেষণা চালানো হয়। ফলাফলে দেখা গিয়েছে , দিনের ৮ ঘণ্টা ধরে খাওয়া ক্যালরি, ট্রনিং তাদের বায়ো-মার্কার উন্নত করার পাশাপাশি, ওজন কমিয়েছে ও পেশীর গঠনে সাহায্য করেছে।
২২০০ জন মোটা মহিলাকে নিয়ে আরেকটি গবেষণা চালান ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। ফলাফলে দেখা গিয়েছে যেই মহিলারা রাতে বেশি সময় না খেয়ে থেকেছেন ও বিশ্রাম নিয়েছেন তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা যেমন নিয়ন্ত্রণে থেকেছে, তেমনই শরীরের বিভিন্ন অংশের প্রদাহ কমেছে। হার্টের স্বাস্থ্য ভাল হয়েছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে, কমেছে ক্যানসার ও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি।
সূত্র: আনন্দ বাজার

Saturday, April 1, 2017

হঠাৎ কেউ ওষুধ বা বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে কী করবেন?

হঠাৎ কেউ ওষুধ বা বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে কী করবেন?



হঠাৎ কেউ ওষুধ বা বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে কী করবেন?
হতাশা বা অন্য কোনো কারণে অনেকেই ওষুধ ও বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এমন পরিস্থিতিতে আশপাশের মানুষেরা তাদের নিয়ে কী করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। অনেক সময় সিদ্ধান্তহীনতাতেও অনেকের জীবন সংশয় হয়ে যায়। তাই করণীয়গুলো জেনে রাখুন। 
লোকলজ্জা নয়, দ্রুত হাসপাতালে নিন
কেউ যদি বিষপান করেন বা এ জাতীয় কোনো ওষুধ সেবনে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান, তাহলে প্রথমে যে কাজটি করতে হবে-দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব কাছের কোনো হাসপাতালে নিতে হবে। অনেকে মান-সম্মানের কথা চিন্তা করে বাড়িতে ওঝা বা হাতুড়ে এনে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসার চেষ্টা করে মূল্যবান প্রাণ নষ্ট করেন। 
মনে রাখবেন, বিষপানের পর এক ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে আনতে পারলে চিকিৎসকদের চিকিৎসা করা সহজ হয়। কারণ, এ সময়ের মধ্যে এলে পাকস্থলী থেকে অশোষিত বিষ বের করার জন্য স্টমাক ওয়াশ (পাকস্থলী পরিষ্কার) করা যায়। এ সময়ের পর হাসপাতালে এলে স্টোমাক ওয়াশ করালে যতটা লাভ হওয়ার কথা, সে পরিমাণ হয় না। 
অবশ্য সব ধরনের বিষ বা ওষুধ সেবনে স্টমাক ওয়াশের দরকার নেই। কোন ক্ষেত্রে পরিষ্কার করতে হবে, সেটি চিকিৎসকই ঠিক করবেন। চিকিৎসককে স্টমাক ওয়াশ করার জন্য অযথা জোরাজুরি করবেন না। 
কাপড়চোপড় পরিবর্তন ও শরীর ধোয়া
কীটনাশকজাতীয় বিষ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করা হলে এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ বিষ শরীরে বা কাপড়চোপড়ে লাগলে সেখান থেকে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে বিষক্রিয়া হতে পারে। তাই বিষপান করলে কাপড়চোপড় খুলে শরীর পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে পারেন। 
অপচিকিৎসা নয়
বিষপান করলে অনেকেই বিষ্ঠা কিংবা গোবরমিশ্রিত পানি পান করিয়ে বমি করানোর চেষ্টা করেন। এটি ঠিক নয়। যদি বিষপান করা ব্যক্তি অচেতন বা অবচেতন অবস্থায় থাকে, তাহলে বমি ফুসফুসে চলে যেতে পারে; এতে ঝুঁকি আরো বাড়ে। কেরোসিন বা অ্যাসিড পান করিয়েও বমি করানোর চেষ্টা করবেন না। এতে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। 
ওষুধের বা বিষের তথ্য
ওষুধ সেবন করলে ব্যবহৃত ওষুধের খোসা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসুন। চিকিৎসা দিতে সুবিধা হবে। 
পরবর্তীতে সতর্ক হোন
একটি কথা মাথায় রাখবেন, যে একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে, সে এটা বারবারই করবে। তাই দেরি না করে সুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। 
শিশু সাবধান
শিশুরা ভুল করে ওষুধ সেবন, অ্যাসিড সেবন বা বিষপান করতে পারে। তাই এগুলো হাতের নাগালের বাইরে রাখুন।

Friday, March 24, 2017

কম কসরতে ওজন নিয়ন্ত্রণ

কম কসরতে ওজন নিয়ন্ত্রণ



মশা বেশি কামড়ানোর কারণ

মশা বেশি কামড়ানোর কারণ



Thursday, March 23, 2017

এক গালে চড় মারলে কি হয় জানেন?

এক গালে চড় মারলে কি হয় জানেন?


এক গালে চড় মারলে কি হয় জানেন?


কেউ এক গালে চড় মারলে হঠাত করেই অপর পক্ষকে বলতে শোনা যায় কেন এক গালে চড় মারলি? বিয়ে হবে না তো! ছোট বেলায় এমন কথা বন্ধুত্বের মধ্যে বেশ প্রচলিত ছিল।  যদিও এখনও ছেলে হোক কিংবা মেয়ে অনেককেই এই কথাটি বলতে শোনা যায়! কিন্তু শুধু তো শুনেছেন।  কখনও ভেবে দেখেছেন এই প্রবাদ আদৌতে সত্যি কি না? অনেকের মতে এটা মোটেই নিছক কুসংস্কার নয়।  এর পেছনে রয়েছে যুক্তিও। কি সেই যুক্তি জানেন?
সেই যুক্তি হল, চড় মারার সময় উত্তজেনাবশত যদি খুব জোরে লাগে তাহলে আচমকা গাল এক পাশে ঘুরে যেতে পারে।  সেক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থিতে চোট লাগতে পারে।  তেমন ঘটনা ঘটলে বিভিন্ন রকমের বিপদের কারণ হতে পারে। তাই এক গালে চড় মারা ভাবেই উচিৎ হবে না।  পাশাপাশি, একগালে চড় মারলে মুখে হঠাত করে দাগ হয়ে যেতে পারে।  সেক্ষেত্রে রক্ত জমে বিপদ হয়ে যেতে পারে।  এছাড়া, একগালে চড় মারলে ঘটে যেতে পারে বেশ কয়েকটি বিপদ।  এমনকি, মৃত্যুও পর্যন্ত ঘটে যেতে পারে। তবে তার মানে এই নয় যে, দুই গালে চড় মারতে হবে।  মোট কথা, গালে চড় মারা থেকে বিরত থাকুন। - ইন্টারনেট
রুপচর্চায় ডিমের সাদা অংশের ফেসপ্যাক

রুপচর্চায় ডিমের সাদা অংশের ফেসপ্যাক


রুপচর্চায় ডিমের সাদা অংশের ফেসপ্যাক
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস, দূষণ এবং ত্বকের রোগ, নানা কারণে আজকাল সৌন্দর্য যেন কোনও এক দূরের স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই লেখায় আলোচিত ডিমের সাদা অংশ দিয়ে তৈরি ফেস মাস্কগুলি নিয়মিত ব্যবহার করলে কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। সেই সঙ্গে নানাবিধ ত্বকের রোগের হাত থেকেও নিস্তার মিলবে। 
ত্বককে সুন্দর করতে বাজার চলতি বিউটি প্রডাক্ট বা কসমেটিক সার্জারির সাহায্য নিতে পারেন। কিন্তু ভুলে যাবেন না এই সব আধুনিক চিকিৎসাগুলির কমবেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, যা কোনও ভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। কিন্তু ঘরোয়া পদ্ধতির কোনও সাইড এফেক্ট নেই। আবারও ফলও মেলে একেবারে ১০০ শতাংশ। তাই সিদ্ধান্ত আপনার, আধুনিক চিকিৎসার উপর ভরসা রাখতে চান, কি পরখ করে দেখতে চান ঘরোয়া পদ্ধতির উপকারিতা। 
প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমে ত্বকের পরিচর্যা করলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাওযার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের বয়স কমে চোখে পড়ার মতো। শুধু তাই নয়, একাধিক ত্বকের রোগের প্রকোপও হ্রাস পায়। 
এমনই একটি উপকারি প্রাকৃতিক উপাদান হল ডিমের সাদা অংশ। এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা নানাভাবে ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। আসুন জেনে নেওয়া যাক ডিমের সাদা অংশ নিয়ে কীভাবে ফেস প্যাক বানাতে হয়:
১. ডিমের সাদা অংশ এবং গাজরের রস
সবেমাত্র বানানো গাজরের রসের সঙ্গে পরিমাণ মতো ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে বানিয়ে ফেলুন একটা পেস্ট। তারপর সেটি পুরু করে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। যখন দেখবেন ফেস মাস্কটা শুকিয়ে গেছে, তখন গরম জল দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে মাত্র একবার এই পেস্টটি মুখে লাগালেই দেখবেন আপনার ত্বক ফর্সা হতে শুরু করেছে। 
২. ডিমের সাদা অংশ এবং ওটমিল
১ চামচ ওটমিলের সঙ্গে একটা ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রনটি ধীরে ধীরে মুখে লাগিয়ে কিছু সময় রেখে দিন। সময় হয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এবার অল্প করে ময়েসচারাইজার নিয়ে ভাল করে মুখটা মাসাজ করুন। 
৪. দই এবং ডিমের সাদা অংশ
একটা ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে ১ চামচ দই মিশিয়ে নিন। তারপর সেই পেস্ট মুখে লাগিয়ে ফেলুন। কিছু সময় রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একদিন এই পদ্ধতির সাহায্যে নিলে ত্বক নরম হয়, সেই সঙ্গে ঔজ্জ্বলতাও বাড়ে। 
৫.ময়দা এবং ডিমের সাদা অংশ
১ চামচ ময়দার সঙ্গে একটা ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিন। যখন দেখবেন উপকরণ দুটি ভাল করে মিশে গেছে, তখন মিশ্রনটি সারা মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। সময় হয়ে গেলে ভাল করে মুখটা ধুয়ে নিন। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে একবারের বেশি এই ফেস প্যাকটি মুখে লাগাবেন না যেন!
৬. মুলতানি মাটি এবং ডিমের সাদা অংশ
একটা ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে ১ চামচ মুলতানি মাটি মিশিয়ে তৈরি করতে হবে এই ফেস মাস্কটি। এটি কম করে ১০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে একবার এই ফেস প্যাকটি মুখে লাগালেই দেখবেন সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো। 
৭. অ্যাপেল সিডার ভিনিগার এবং ডিমের সাদা অংশ
এক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়বে ১ চামচ ভিনিগার এবং একটা ডিমের সাদা অংশের। দুটি উপকরণ ভাল করে মিশিয়ে একটা মিশ্রন বানিয়ে ফেলুন। তারপর সেটি সারা মুখে লাগিয়ে কিছু সময় রেখে দিন। যখন দেখবেন পেস্টটা শুকিয়ে গেছে তখন হালকা গরম জল দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। 
৮. লেবুর রস এবং ডিমের সাদা অংশ
১ চামচ লেবুর রসের সঙ্গে পরিমাণ মতো ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রনটি মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করুন। সপ্তাহে একবার এটি মুখে লাগালেই দেখবেন উপকার পেতে শুরু করেছেন।

ভুল বন্ধনে চুলের ক্ষতি

ভুল বন্ধনে চুলের ক্ষতি


Wednesday, March 22, 2017

পেট কমাবেন কীভাবে?

পেট কমাবেন কীভাবে?


ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি থেকে শুরু করে নানা কসরত করছেন, তবু পেটের চর্বি বা মেদ কমছে না। এ সমস্যা অনেকের। এ বিষয়ে কয়েকটি তথ্য:
* সাঁতার কাটুন, হাঁটুন। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামে ধীরে ধীরে পেটের মেদ কমবে।
* বিনোদনমূলক ব্যায়াম হিসেবে নাচের অভ্যাস মন্দ নয়। ঘরের ভেতর একা একা এটা করা যায়।
* যাঁদের পেট খুব থলথলে, তাঁদের কখনোই পেটে চাপ দিয়ে ব্যায়াম করা উচিত নয়। বেশি চাপের কারণে হার্নিয়া হয়ে যেতে পারে।
* বসা, শোয়া বা যেকোনো অবস্থায়ই পেটের মাংসপেশির সংকোচন করতে পারেন। প্রতিদিন দু-তিন দফায় পাঁচবার করে এ ব্যায়াম অনুশীলন করুন।
* সাইকেল চালাতে পারেন অথবা শোয়া অবস্থায় দুই পায়ের সাহায্যে সাইকেল চালনার অঙ্গভঙ্গি করুন।
* শোয়া অবস্থা থেকে মাথা উঠিয়ে ধীরে ধীরে দুই হাতের সাহায্যে দুপায়ের পাতা ছোঁয়ার চেষ্টা করুন। প্রথমে পায়ের পাতা পর্যন্ত যেতে না পারলে হাঁটু ভাঁজ করা অবস্থায় শুয়ে ব্যায়ামটি শুরু করুন। ধীরে ধীরে মাথা উঠিয়ে দুই হাতের সাহায্যে দুই হাঁটু স্পর্শ করুন। ব্যায়ামটি করতে করতে আপনি শোয়া থেকে বসা অবস্থায় চলে আসবেন। অভ্যস্ত হয়ে গেলে ধীরে ধীরে পা সোজা রেখে পায়ের পাতা স্পর্শ করতে চেষ্টা করুন। আবার এই ব্যায়ামে ডান হাত দিয়ে বাম পায়ের পাতা এবং বাম হাত দিয়ে ডান পায়ের পাতাও ধরতে চেষ্টা করতে পারেন।
* উপুড় হয়ে শুয়ে শরীরটাকে ধনুকের মতো বাঁকা করুন। এভাবে ১০ সেকেন্ড থাকুন। ধীরে ধীরে সোজা হোন।
* দাঁড়ানো অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে ঝুঁকতে থাকুন। হাঁটু ভাঁজ না করে দুপায়ের পাতা ছোঁয়ার চেষ্টা করুন। এ ক্ষেত্রে দুই পা ফাঁকা করে ডান হাত দিয়ে বাম পায়ের পাতা এবং বাম হাত দিয়ে ডান পায়ের পাতাও ধরতে চেষ্টা করুন। প্রতিদিন দুই দফায় পাঁচবার করতে পারেন।
* শুয়ে থেকে পা দুটোকে সোজাভাবে ওপরের দিকে ওঠান। পা ওঠানোর সময় ঘাড় ওঠালে আরও ভালো। একবার বাম পা এবং একবার ডান পা উঠিয়েও ব্যায়ামটি করা যায়। প্রতিদিন দুই দফায় পাঁচবার।
* শুয়ে থাকা অবস্থায় দু-পা, দু-হাত ও মাথা ওঠান। এই ব্যায়ামের সময় হাত ও পা বেশ কাছাকাছি আনতে হবে। প্রতিদিন দুই দফায় পাঁচবার।
বিভাগীয় প্রধান, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতা
কম্পিউটার স্ক্রিন কি আসলেই দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করে

কম্পিউটার স্ক্রিন কি আসলেই দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করে



কম্পিউটার স্ক্রিন কি আসলেই দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করে
অফিসের কাজ অথবা পড়াশোনা এমনকি কোনো কাজ ছাড়াই অনেকে সারা দিন কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে কাটান। এই কাজটি কি আপনার চোখের ক্ষতি করছে? অনেকের মনে হয় তাদের চোখ ক্লান্ত হয়ে গেছে, মাথা ধরে আছে। আসলে কী হচ্ছে?
আপনার এই সমস্যাটি হতে পারে 'কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম'।
এটাকে ডিজিটাল আই স্ট্রেইনও বলা হয়। লম্বা সময় ধরে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট এবং স্মার্টফোন ব্যবহার করেন যারা তাদের এ সমস্যা হতে পারে, জানা যায় অ্যামেরিকান অপটোমেট্রিক অ্যাসোসিয়েশন থেকে।
অফিসে অপর্যাপ্ত আলো, স্ক্রিনের আলো এবং সঠিকভাবে না বসার কারণে এই সমস্যা বাড়তে পারে। এর থেকে শুষ্ক চোখের সমস্যাও হতে পারে। সাধারণ সময়ে আমরা যতবার চোখের পাতা ফেলি, স্ক্রিনের সামনে তার ৬৬ শতাংশ কম ফেলি। এ কারণে চোখ শুষ্ক হয়ে যায়, জানা যায় ইউনিভার্সিটি অফ আইওয়া হেলথ কেয়ারের রিপোর্ট থেকে।
সুতরাং স্ক্রিনের কারণে চোখ ক্লান্ত হয় ঠিকই কিন্তু তা কি দৃষ্টিশক্তি খারাপ হওয়ার পেছনে দায়ী? না, বলেন মেলানি এ. শ্মিট। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিনের অপথ্যালমলজির একজন সহকারী অধ্যাপক।
ইদানীং মায়োপিয়ার সমস্যাটা বেশি দেখা যাচ্ছে, কিন্তু সেটা স্ক্রিনের জন্য কিনা তা গবেষকরা এখনও নিশ্চিত নন। এর পেছনে বংশগত কারণ, বাইরে যথেষ্ট সময় না কাটানো এমনকি ঘুমের সমস্যাও জড়িত।
কোনো ওয়েবসাইটে লেখা পড়া বা ইনস্টাগ্রাম দেখার সময়ে চোখের আশপাশের ছোট ছোট পেশিগুলো এসব জিনিস ফোকাসে আনার জন্য কাজ করে। এ কাজ খুব বেশি সময় ধরে করলে তাতে চোখের ওপর চাপ পড়ে, এই ক্লান্তিই আপনি অনুভব করেন। মায়ো ক্লিনিকের মতে, এর কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নেই।
মাদ্রিদের এক সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা যায়, এলইডি লাইট ইঁদুরের রেটিনা ড্যামেজ করতে পারে। স্ক্রিনে ব্যবহার করা হয় এই লাইট।
কিন্তু এই একই রকমের ক্ষতি মানুষের হয় কিনা তা গবেষণা করে দেখা প্রয়োজন। মোট কথা এটাই, আপনি যদি স্ক্রিন থেকে নিয়মিত ব্রেক না নেন তাহলে ক্ষতি হতে পারে, যদিও সেই ক্ষতি অস্থায়ী হয়। ২০-২০-২০ রুল মেনে আপনি চোখের ওপর চাপ কমাতে পারেন। প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিনে কাজ করার পর ২০ ফুট দূরত্বের কোনো কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকেন ২০ সেকেন্ড।
এ ছাড়াও কম্পিউটারের স্ক্রিনের আলো কমাতে পারেন এবং আই ড্রপ ব্যবহার করে শুষ্ক চোখ থেকে মুক্ত হতে পারেন। তবে কিছুটা সময় বাইরে কাটানো এবং প্রকৃতির দিকে দৃষ্টি দেওয়াটা হতে পারে সবচেয়ে ভালো উপায়। 
সূত্র : হাফিংটন পোস্ট
সম্পর্কে মানসিক নিপীড়নের ১০ লক্ষণ

সম্পর্কে মানসিক নিপীড়নের ১০ লক্ষণ




সম্পর্কে মানসিক নিপীড়নের ১০ লক্ষণ
আপনি কি নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কে সুখী? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে অনেকেই ভেবে পান না কী বলবেন। আর্থিক ভাবে সচ্ছ্বল, শিক্ষিত সঙ্গীর সঙ্গে প্রেম বা বিয়ের সম্পর্কে অনেকেই নিজেকে অসুখী বলার কারণ খুঁজে পান না। 
কিন্তু তা সত্ত্বেও কি কোনও না কোনও কারণে আপনাদের মধ্যে অশান্তি লেগে থাকে? নিজেকে ঠিকমতো প্রকাশ করতে না পারায় আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগতে থাকেন? নিজেরা না বুঝতে পারলেও আমরা অনেকেই ব্যক্তিগত সম্পর্কে মানসিক নিপীড়নের শিকার হই। জেনে নিন কোন লক্ষণগুলো দেখেলে তা বুঝবেন। 
১. আপনার সঙ্গী কি অনুমতি ছাড়াই যখন তখন আপনার ফোন চেক করেন? বিয়ে বা প্রেমের সম্পর্কে সব কিছুই ভাগ করে নিতে হয়। কিন্তু কিছু জিনিস একান্ত নিজস্ব হয়। 
২. আপনার সঙ্গী কি সব সময় আপনাকে কোনও না ভাবে ছোট করেন? নিজেকে আপনার থেকে উন্নত প্রমাণ করতে চান?
৩. আপনার সঙ্গী কি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না? রেগে গেলে ওঁর হিতাহিত জ্ঞান থাকে না?  সব মানুষেরই রাগ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু তা যদি মাত্রাতিরিক্ত ও আপনার জন্য কষ্টদায়ক হয় তাহলে সাবধান থাকুন। 
৪. উনি কি আপনার ভাল দেখতে পারেন না? আপনার কোনও সাফল্য কি ভিতরে ভিতরে উনি হীনমন্যতায় ভুগতে থাকেন?
৫. উনি আপনাকে আপনার পরিবার, বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে একা করে দিতে চান?
৬. আপনার সঙ্গী কি কোনও না কোনও ভাবে আপনাকে দোষারোপ করতেই থাকেন? কিছু না কিছু অভিযোগ ওঁর সব সময়ই থাকে?
৭. উনি কি আপনাকে ইচ্ছা করে পাগল, মাথা খারাপ বোঝানোর চেষ্টা করেন?  এই অসম্মান মেনে নিয়ে নিজের উপর সংশয় তৈরি হয় আপনার?  তাহলে অবিলম্বে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসুন। 
৮. কোনও বা কোনও ভাবে কি সঙ্গী আপনাকে শারীরিক আঘাত করেন? এড়িয়ে যাবেন না। 
৯. আপনার সঙ্গী কি একটু বেশিই পজেসিভ আপনার প্রতি? এই অতিরিক্ত অধিকার বোধে কি আপনার দম বন্ধ লাগে? এটাকে কিন্তু ভালবাসার প্রকাশ ভেবে ভুল করবেন না। 
১০. আপনার সঙ্গী কি সব সময় আপানর কী করা উচিত, কী উচিত নয় তা বলতে থাকেন? আপনার সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে চান?