Tuesday, April 25, 2017

এসএসসির ফল প্রকাশ ৪ মে

আগামী ৪ মে (বৃহস্পতিবার) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৪ মে সকাল ১০টায় তিনি এবং বোর্ডের চেয়ারম্যানরা ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তুলে দেবেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
সংবাদ সম্মেলনের পর শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মোবাইলে শিক্ষার্থীরা ফল জানতে পারবেন।
ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে এ পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় মার্চের প্রথম দিকে।

Wednesday, April 19, 2017

৭ কলেজের ২ লাখ শিক্ষার্থী বিপদে

৭ কলেজের ২ লাখ শিক্ষার্থী বিপদে



৭ কলেজের ২ লাখ শিক্ষার্থী বিপদে
দীর্ঘদিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা রাজধানীর বড় সাতটি সরকারি কলেজ সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়েছে। তবে এর পর থেকেই সংকটে পড়েছে এসব কলেজে অধ্যয়নরত প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী। অনেক শিক্ষার্থীরই রচনামূলক পরীক্ষা শেষ হয়েছে, কিন্তু কয়েক মাস ধরে আটকে আছে ব্যবহারিক পরীক্ষা। বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষারও নতুন করে কোনো তারিখ ঘোষণা করা হচ্ছে না। কলেজগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গেলেও এখনো সিলেবাস বা পাঠ্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সিলেবাসবিহীন অবস্থায়ই পড়ালেখা করছে শিক্ষার্থীরা। ফলে তাদের সেশনজটে পড়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। এগুলো হচ্ছে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। অধিভুক্ত হওয়ার পর পরীক্ষা, ক্লাসসহ সার্বিক লেখাপড়া নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় শিক্ষার্থীরা উদ্বেগে রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি তাঁদের বিভিন্ন বক্তব্যেও দ্বন্দ্বের বিষয়টি ফুটে ওঠে। সরকার যখন সরকারি কলেজ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দিতে চায় তখন থেকেই রাজধানীর নামি কলেজগুলো নিজেদের আয়ত্তে নিতে উঠেপড়ে লাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা না করে কোনো কোর্স কারিকুলাম বা পরিকল্পনা না করেই সাতটি কলেজ নিয়ে নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এতে হঠাৎ সংকটে পড়ে শিক্ষার্থীরা।
গত মাসে সরকারি তিতুমীর কলেজের এক অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘খাতা না দেখেই চূড়ান্ত ফল দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে তাদের শিক্ষার মান কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের আত্মীয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষক। তিনি একবার অনার্সের খাতা নিলেও অসুস্থতার কারণে দেখতে পারেননি। তাই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান, দ্রুত যেন খাতা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর পক্ষে খাতা দেখা সম্ভব নয়। কিন্তু মাসখানেক পার হলেও কেউ খাতার ব্যাপারে খোঁজ নেয়নি। এর কিছুদিন পরেই ফলাফল দিয়ে দেওয়া হয়। অথচ তখন অদেখা অবস্থায় কয়েক শ খাতা ওই শিক্ষকের বাসায় পড়ে ছিল। এই হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার অবস্থা। ’
তবে ঢাবি উপাচার্যের এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অসত্য, মনগড়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষপ্রসূত বলে উল্লেখ করে তা প্রমাণের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে ঢালাওভাবে মনগড়া এরূপ বক্তব্য প্রদান একজন উপাচার্যের দায়িত্বশীল পদে আসীন ব্যক্তির পক্ষে কতদূর সমীচীন, তা কারো পক্ষে না বোঝার কথা নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যে একজন চরম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-বিদ্বেষী, তাঁর এ বক্তব্য থেকে সেটি স্পষ্ট। ড. আরেফিন সিদ্দিককে তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হলো। অন্যথায় তাঁর এ ধরনের অসত্য, মনগড়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। ’
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অধিভুক্ত সাত কলেজ নিয়ে আমাদের নীতিনির্ধারণের কাজ চলছে। তবে অধিভুক্ত কলেজ আমাদের জন্য নতুন নয়। আগেও এই কলেজগুলো আমাদের অধীনে ছিল। ফলে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা সব কিছুই ডিজিটাল পদ্ধতিতে করার চেষ্টা করছি। যাদের ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি আছে শিগগির আমরা তা নেওয়ার চেষ্টা করব। আর নতুন পরীক্ষার তারিখও দ্রুত ঘোষণা করা হবে। ’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা (সাত কলেজের অধিভুক্তি) সরকারি সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই ভালো জানে। তারা যেটা ভালো মনে করেছে সেটাই করেছে। আমরা অনার্স চতুর্থ বর্ষের লিখিত পরীক্ষা নিয়েছি, ব্যবহারিক নেওয়ারও সময় দেওয়া হলো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে আমাদের কাছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। আমরা সেগুলো প্রস্তুত করছি। প্রথম দিকে তো কিছুটা সমস্যা হবেই। আশা করি, আস্তে আস্তে সেটা তারা উতরে যবে। ’
জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই, ৩ জানুয়ারি। শেষ হয় গত ১১ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ব্যবহারিক শুরুর আগেই কলেজগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে যায়। যদিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় থাকা অন্য কলেজগুলোর ব্যবহারিক পরীক্ষা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত ও প্রাইভেট (নতুন সিলেবাস) এমএ, এমএসএস, এমবিএ, এমএসসি ও এম মিউজ শেষ পর্ব পরীক্ষার রুটিনও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করেছে। ২০১৬ সালের ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষার সময়সূচিও ঘোষণা করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। তারা এই পরীক্ষায় অংশও নিতে পারছে না।
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ পর্ব পরীক্ষার সময়সূচিতে রাখা হয়নি অধিভুক্ত সাত কলেজ। ইতিমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্সের একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এই সাত কলেজের শিক্ষার্থী এতে অংশ নিতে পারেনি। এমনকি এসব কলেজের শিক্ষার্থীর তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শামসুন নাহার বলেন, ‘কিছুটা গ্যাপ হয়ে যাচ্ছে। আশা করছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তা পূরণ করে ফেলবে। ’ সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু হায়দার আহমেদ নাসের বলেন, ‘এটা সরকারি সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আমাদের এখানে কিছুই বলার নেই। ’
সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় থাকাকালীন ওই সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অনেকে এক বা একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়ে পরের বর্ষে প্রমোশন পেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষার আগে পূর্বের বর্ষের অনুত্তীর্ণ বিষয়গুলোতে উত্তীর্ণ না হলে ফল স্থগিত থাকে। এখন এ  ধরনের শিক্ষার্থী, যারা একাধিক বর্ষে বিভিন্ন বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছে, তারা কোন সিলেবাসে, কোথায় পরীক্ষা দেবে তা নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে আছে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খুব শিগগির এসব শিক্ষার্থীর সমস্যা সমাধানও সম্ভব নয়।
ঢাকা কলেজের সমাজবিজ্ঞানের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমি দ্বিতীয় বর্ষের একটি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তৃতীয় বর্ষে প্রমোশন পেয়েছি। এখন আমার দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষাটা কে নেবে? আর যদি এই পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নতুন কারিকুলামে নেয় তাহলে আমি কিভাবে পরীক্ষা দেব? আর এমনিতেই আমরা প্রায় এক বছরের সেশনজটে আছি। এখন যদি পরীক্ষা শুরু করতে আরো দেরি হয় তাহলে বড় সেশনজটে পড়ে যাব। ’
জানা যায়, চলতি মাসেই শেষ হবে এইচএসসি পরীক্ষা। জুলাই থেকে শুরু হবে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া। এত দিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই সাত কলেজে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে ভর্তি করবে তা এখনো ঘোষণা করেনি। সাধারণত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে থাকে। তাই এই সাত কলেজেও যদি ভর্তি পরীক্ষা নিতে হয় তাহলে অনেক বড় আয়োজন করতে হবে। আর এখনই যদি ভর্তি পরীক্ষার ঘোষণা দেওয়া না হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রস্তুতিও নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে শিক্ষার্থীরা ভর্তি নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
অধিভুক্ত কলেজগুলোর বিভিন্ন বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, তারা এখনো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস পড়ছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই সিলেবাস রাখবে, না নতুন করে দেবে তা এখনো বলেনি। আর একজন শিক্ষার্থীর অর্ধেক পড়ালেখা শেষে তাদের জন্য নতুন সিলেবাসে পড়ালেখা করাটা কঠিন।  
সরকারি তিতুমীর কলেজের অর্থনীতি অনার্স কোর্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আদনান হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসেই আমি দুটি বর্ষ শেষ করেছি। এখন যদি আমাকে নতুন করে সিলেবাস দেয় তাহলে তার সঙ্গে তাল মেলানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্তির দুই মাস পার হয়ে গেলেও আমরা নতুন কোনো পাঠ্যক্রম বা নির্দেশনা পেলাম না। এতে খুবই চিন্তায় আছি। আর নতুন সিলেবাস এলে নির্ঘাত আমাদের রেজাল্ট খারাপ হবে। এর দায়দায়িত্ব কে নেবে? তাই আমরা যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই থাকি না কেন আমাদের যেন পুরনো সিলেবাসেই লেখাপড়া শেষ করার সুযোগ দেওয়া হয়। ’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী নিয়েই হিমশিম খাচ্ছে। এর ওপর যোগ হয়েছে আরো সাত কলেজের দুই লাখ শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া, খাতা দেখা, ফল প্রকাশ, রেজিস্ট্রেশন, ভর্তি, ফরম পূরণ, একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাদের বড় ধরনের জনবল দরকার। কিন্তু এই আয়োজন এখনো শুরুই করতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
নাম প্রকাশ না করে রাজধানীর একটি সরকারি কলেজের একজন বিভাগীয় প্রধান বলেন, ‘সাধারণত কোনো কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণার দিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। এই সাত কলেজের ক্ষেত্রেও একই কাজ করা হয়েছে। কিন্তু মনে রাখা উচিত ছিল, এই সাত কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই লাখ। তাদের বিভিন্ন ধরনের কোর্স রয়েছে। ফলে এত শিক্ষার্থীকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে বেশ বেগ পেতে হবে। এ ক্ষেত্রে যদি ঘোষণার পরবর্তী বর্ষে যারা ভর্তি হবে তাদেরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হতো তাহলে আর কোনো সমস্যা হতো না। ’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাজধানীর সাত কলেজ অধিভুক্ত হয়েছে। তাই পুরো কাজটা তাদেরই, এখানে আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই। কলেজগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গেলে কী হবে আর না গেলে কী হবে—এ বিষয়ে আমরা আগেই মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।   দুই লাখ শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গেলে তাদের জনবল, টাকা-পয়সা কী লাগবে সেটাও প্রতিবেদনে আছে। এত শিক্ষার্থী সামাল দেওয়া, পরীক্ষা নেওয়া, খাতা দেখা তো চাট্টিখানি কথা নয়। ’
জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সরকারি কলেজগুলোকে সংশ্লিষ্ট এলাকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার নির্দেশ দেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রায় দুই হাজার ১৫০টি কলেজে ২১ লাখ শিক্ষার্থী থাকলেও সরকারি ১৮৪টি কলেজেই অধ্যয়ন করে ১৩ লাখ শিক্ষার্থী। সরকারি কলেজ পৃথক করার এই সিদ্ধান্তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে সময় আপত্তি জানিয়েছিল। তবে টেকেনি। গত বছরের ২৮ অক্টোবর এক সভায় অধিভুক্ত সরকারি কলেজগুলোকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৮৪টি কলেজকে ভাগ করে দিতেও সুপারিশ করে এ বিষয়ে গঠিত কমিটি। এর মধ্যে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাজধানীর সাত কলেজ দেওয়া হয়। যদিও বাকি ১৭৭টি কলেজকে এখনো অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেওয়া হয়নি।  
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আব্দুল্লাহ আল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাত কলেজের দায়িত্ব যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েছে তাই পুরো দায়দায়িত্বই তাদের। তাদেরই উচিত এ ব্যাপারে দ্রুত করণীয় ঠিক করা। ’

Tuesday, April 18, 2017

খাগড়াছড়িতে হরতাল চলছে

খাগড়াছড়িতে হরতাল চলছে



খাগড়াছড়িতে হরতাল চলছে
মোটরসাইকেল চালক মো. ছাদিকুল ইসলামের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের অব্যাহত চাঁদাবাজির প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হচ্ছে। পাহাড়ে বাঙালির অধিকার আদায়ে আন্দোলনরত পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও পাবর্ত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ এ হরতালের ডাক দেয়।
হরতাল চলাকালে বুধবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে খাগড়াছড়ি উন্নয়ন বোর্ড সড়কের সামনে পিকেটাররা একটি ট্রাক ভাঙচুর করলে পুলিশ পিকেটারদের ধাওয়া ধরে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় তিন পিকেটারকে আটক করলেও পরে তাদের ছিনিয়ে নেয়া হয়।
হরতাল সমর্থনে সকাল থেকেই খাগড়াছড়ি জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীদের পিকেটিং করতে দেখা গেছে। তবে হরতালকে ঘিরে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সকাল সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে খাগড়াছড়ি জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশের ওসি তারেক মো. আবদুল হান্নান।
এদিকে হরতাল চলাকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী নৈশকোচগুলো পুলিশি নিরাপত্তায় জেলা শহরে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। জেলা সদর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দুরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। বন্ধ রয়েছে আভ্যন্তরীণ সড়কে সব ধরনের যান চলাচল। হরতালের কারণে জেলা ও উপজেলার সকল হাট বাজারে সব ধরনের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১০ এপ্রিল অপহরণের তিন দিন পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে মাটিচাপা অবস্থায় রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলার ঘিলাছড়ি থেকে খাগড়াছড়ির মহালছড়ির মোটরসাইকেল চালক মো. ছাদিকুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

Sunday, April 9, 2017

৪০০ বছর পর বিশাল গ্রহাণু ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে!

৪০০ বছর পর বিশাল গ্রহাণু ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে!

ASTEROID

এই সেই গ্রহাণু, যা ধেয়ে আসছে আমাদের দিকে...

সুবিশাল একটা গ্রহাণু বা অ্যাস্টারয়েড ছুটে আসছে আমাদের দিকে। প্রায় উল্কার গতিতে! সেই বিশাল গ্রহাণুটি আদৌ কৃষ্ণ কালো নয়! বরং চাঁদ যতটা আলো তার পিঠ থেকে ঠিকরে দেয়, তার দ্বিগুণ আলো ঠিকরে দিতে পারে এই গ্রহাণুটি। হুশ‌্ করে সেই গ্রহাণুটি এসে পড়বে নববর্ষের পরপরই। আর, তা পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসবে ১৯ এপ্রিল। গত ৪০০ বছরে এই গ্রহাণুটি এত কাছে আসেনি পৃথিবীর। আগামী ৫০০ বছরে আর এত কাছে আসবেও না।
গ্রহাণুটির নাম- ‘২০১৪-জেও-২৫’। মাত্র তিন বছর আগে, ২০১৪-য় আরিজোনার টাকসনে ক্যাটলিনা স্কাই সার্ভে টেলিস্কোপ দিয়েই প্রথম এই বিশাল গ্রহাণুটির হদিশ পান জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নাসা জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত হিসেব কষে যেটুকু বোঝা গিয়েছে, তাতে চেহারায় ওই গ্রহাণুটি হবে প্রায় ২ হাজার ফুট বা ৬৫০ মিটার। তার মানে, কোনও ঘরের উচ্চতা যদি হয় ১০ ফুট, তা হলে প্রায় ২০০ তলা বাড়ির মতো চেহারা ওই গ্রহাণুটির।
তবে গ্রহাণুটি খুবই ঝকঝকে, উজ্জ্বল। অবশ্যই তা নিজের আলোয় নয়। সূর্যের আলো তার পিঠে পড়লে তা অনেকটাই প্রতিফলিত হয়। আর সেই প্রতিফলনের মাত্রাটা কত, জানেন? চাঁদ থেকে যতটা আলো প্রতিফলিত হয়, তার দ্বিগুণ। তাই অত ঝকঝকে, অত উজ্জ্বল এই গ্রহাণুটি।
তবে নাসা জানাচ্ছে, গ্রহাণুটি কী পদার্থ দিয়ে তৈরি, তার সারফেস বা পিঠটা কেমন, সে সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত বিশেষ কিছু জানা যায়নি। এমনকী, সেই গ্রহাণুটির ট্র্যাজেক্টরি বা গতিপথ ঠিক কী রকম, সেটাও এখনও পর্যন্ত সঠিক ভাবে জানা সম্ভব হয়নি। শুধু হিসেব কষে এটুকু জানা গিয়েছে, ১৯ এপ্রিল সেটি যখন আমাদের সবচেয়ে কাছে আসবে, তখন পৃথিবী থেকে সেটি থাকবে ১১ লক্ষ মাইল বা ১৮ লক্ষ কিলোমিটার দূরে। তার মানে, চাঁদ যতটা দূরে রয়েছে পৃথিবীর, তার সাড়ে ৪ গুণ দূরত্বে পৃথিবীর পাশ কাটিয়ে আমাদের নিরাপদে রেখেই চলে যাবে গ্রহাণুটি। টেলিস্কোপে দেখা যাবে সেই গ্রহাণুটিকে।

Wednesday, April 5, 2017

অধিভুক্ত সাত কলেজের নীতিমালা ফাঁস

অধিভুক্ত সাত কলেজের নীতিমালা ফাঁস

অবশেষে অধিভুক্ত সাত কলেজের নীতিমালা তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেই নীতিমালা প্রকাশ করার আগেই ফাঁস হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
গত ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর সাত কলেজ ঢাবির অধিভুক্ত হওয়ার পরীক্ষা ও পাঠ কার্যক্রম নিয়ে শঙ্কার মধ্যে ছিল অধিভুক্ত সাত কলেজের প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী। নীতিমালা তৈরিতে গত ১ এপ্রিল সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সাথে বৈঠকে বসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু ওই বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই বৈঠকে গৃহীত নীতিমালার ফাঁস হওয়া একটি কপি পূর্বপশ্চিমের হাতে এসে পৌঁছেছে।
বৈঠকে মোট ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নীতিমালার কপি ঢাবির কলেজ পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে অধিভুক্ত কলেজগুলো পাঠানো হয়েছে। পাঠকদের জন্য নীতিমালাটি প্রকাশ করা হল-
০১. মাস্টার্স শেষ পর্ব, অনার্স ৩য় বর্ষ,ডিগ্রী (পাস) ১ম ও ৩য় বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফরম পূরণ করেছে, কিন্তু পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি, তাদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নতুন করে ফরম পূরণ করতে হবে। এজন্য ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে কোনো ফি নেওয়া হবে না।
পরীক্ষা কমিটি গঠন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ইত্যাদি কাজ কলেজ অধ্যক্ষ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আলোচনা করে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
০২. যে সকল ছাত্র-ছাত্রীর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরর অধীনে লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য কলেজ কলেজ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
০৩. যে সকল ছাত্রছাত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে, যাদের ফলাফল স্থগিত আছে বা ফলাফল প্রকাশিত হয়নি, তাদের ফলাফল প্রকাশের দায় দায়িত্ব জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরর। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষগণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
০৪. কলেজে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত ও রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যারা বিশেষ পরীক্ষায় ও গ্রেড উন্নয়ন করতে ইচ্ছুক.. তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
০৫. সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার বাদে অন্যান্য দিনে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হোক।
০৬. প্রত্যেক কলেজে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হোক। তবে এক কলেজের শিক্ষার্থীদের অন্য কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
০৭. যে সকল শিক্ষার্থীর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে.. প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়া সাপেক্ষে তাদের রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হোক।
০৮. মাস্টার্স শেষ পর্ব ও ডিগ্রী (পাস) ১ম বর্ষে ভর্তির জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রনীত ২য় ও চূড়ান্ত অপেক্ষমান মেধা তালিকা প্রেরণের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধ্যক্ষবৃন্দকে অনুরোধ করে রেজিস্ট্রার দপ্তর কর্তৃক পত্র প্রেরণ করা হোক।
০৯. কলেজ সমূহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তিকৃত ও রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন নাম্বারসহ অনান্য প্রয়োজনীয় তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করে ছাএছাএীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
১০. যে সব কলেজে ডিগ্রী (পাস) কোর্স চালু সেই সব কলেজ থেকে কোন ছাত্র-ছাত্রী বহিরাগত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে ইচ্ছুক হলে, সেই সকল ছাত্র-ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মঅনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
১১. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রণীত কোর্স কারিকুলাম অনুযায়ী আপাতত ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা নেওয়া হোক। কলেজে প্রচলিত কোর্স সমূহের কোর্স দ্রুত সংশোধন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় করার যথাযত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
১২. কলেজগুলোতে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ সম্মান শ্রেণি, পাস কোর্স,ও মাস্টার্স কোর্সে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিওিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
উল্লেখ্য, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ গত ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

Monday, April 3, 2017

বিজ্ঞাপনের মাঠেও ট্রাম্প

বিজ্ঞাপনের মাঠেও ট্রাম্প

আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর কথাবার্তা নিয়ে মেতে উঠেছে বিজ্ঞাপন দুনিয়া। পণ্যের বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পকে তারা কিভাবে তুলে ধরেছে? লিখেছেন ফারাহ্ মাহমুদ


বিজ্ঞাপনের মাঠেও ট্রাম্প

এই মুহূর্তে মোটামুটি আলোচিত-সমালোচিত ক্ষমতাধর ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জন ট্রাম্প। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেফাঁস মন্তব্য আর নির্বাহী আদেশের ঘনঘটায় জন্ম দিয়ে চলেছেন বিতর্কের। এদিকে সৃজনশীলরাও বসে নেই। ট্রাম্পের বিতর্কিত উক্তি দিয়েই তারা বানিয়ে ফেললেন বিজ্ঞাপন। গত কয়েক মাসে বিভিন্নভাবে বিজ্ঞাপনে ঠাঁই পেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের একটি মুদি দোকানের ক্রিসমাসের বিশেষ বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে, সান্তা ক্লজের ছবি আঁকা মোড়কের ভেতর চকোলেটের তৈরি ক্ষুদ্রাকৃতির ট্রাম্প। বিজ্ঞাপনী সংস্থা টাফ স্লেটের ডিজাইন করা এই বিজ্ঞাপনটির ট্যাগলাইন হচ্ছে ‘মেক ক্রিসমাস গ্রেট এগেইন। ’ কয়েক দিন আগের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগানটাও ছিল ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন। ’
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নারীদের বিরুদ্ধে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করেও রোষের শিকার ট্রাম্প। লন্ডনভিত্তিক স্কেটবোর্ড কম্পানি ‘হেইটবোর্ড’ ট্রাম্পের এই আচরণের বিরোধিতা করেছে নিজস্ব পদ্ধতিতে। কম্পানিটির এক মিনিটের একটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, ট্রাম্পের ছবি ছাপা স্কেটবোর্ডে চড়ছেন নারীরা। পরে তাঁরা স্কেটবোর্ডগুলো ভেঙে পানিতে ফেলে দেন। বিজ্ঞাপনের থিম—‘উইমেন এগেইনস্ট ট্রাম্প, স্কেট এগেইনস্ট ট্রাম্প, ভোট এগেইনস্ট ট্রাম্প। ’ সম্প্রতি রোমানিয়ায় সাধারণ নাগরিকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার জন্য প্রচারণার বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পের ছবিসহ কটূক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবির নিচে লেখা—‘সৌভাগ্যবশত আপনি একজন রোমানিয়ান ভোটার। তাই আসুন, ভোট দিন। ’ ট্রাম্প কি শুধু ঘৃণার বাণী ছড়াচ্ছেন? তিনি কি ভালোবাসতে পারেন না? আলবৎ পারেন। তার সপক্ষেই প্রচারের সময় ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য থেকে মানুষকে ভালোবাসার কথা তুলে ধরে বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপ বানিয়েছেন কয়েকটি বিজ্ঞাপন এজেন্সির ক্রিয়েটিভরা। তাঁরা এর শিরোনাম দিয়েছেন—‘ট্রাম্প উইথ লাভ’। ট্রাম্পকে নিয়ে বিজ্ঞাপন বানিয়েছে টি এ মি। এতে ট্রাম্পকে চা পানের আহ্বানও জানিয়েছে তারা। নিউ ইয়র্ক বেকারি তাদের বিজ্ঞাপনে জানাচ্ছে—তাদের পাউরুটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথার মতো তিক্ত নয়, বরং সুস্বাদু।
অফিসে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাম্পের ছবি দিয়ে ডুরেক্সের বিজ্ঞাপন—‘ডুরেক্স, গেট ইন এনিহয়ার। রিয়েলি। এনিহয়ার। ’
চকোলেট কম্পানি অ্যাটোমিক ক্যান্ডি তাদের হ্যালোইন উৎসবের বিশেষ আয়োজনের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করেছে ট্রাম্পের ছবি। রোকোসাম রেস্টুরেন্ট তো আরো একধাপ ওপরে। তারা বাজারে এনেছে ‘দ্য ডোনাল্ড’ নামের নতুন এক বার্গার! নিউ ইয়র্ক বেকারি তাদের কম্পানির চিজ বেগলেসর বিজ্ঞাপনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এনিমেটেড রূপ ব্যবহার করেছে। এমনকি নিউ ইয়র্ক সিটিতে ব্যস্ত সড়কের মোড়ে বিভিন্ন সতর্ক বার্তায়ও ট্রাম্পের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনগুলোর মজার ট্যাগলাইনগুলো মূলত ট্রাম্পের দিকে ছুড়ে দেওয়া সূক্ষ্ম অপমানসূচক মন্তব্য। তবে বিষয়বস্তু যা-ই হোক না কেন, নিঃসন্দেহে বিজ্ঞাপনের বাজারেও এখন তুঙ্গে আছেন ট্রাম্প মহাশয়।